
হাইতির বিপক্ষে দাপুটে জয় দিয়ে চলতি বিশ্বকাপে নিজেদের চেনা ছন্দে ফিরেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। তবে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে এবার সেলেসাওদের সামনে ভিন্ন চ্যালেঞ্জ। সেমিফাইনালের পথে এগিয়ে যেতে এবং গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে পরের রাউন্ড নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামছে সাম্বা ব্রিগেড। যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ ইউরোপের লড়াকু দল স্কটল্যান্ড। ম্যাচটিকে ঘিরে ফুটবল বিশ্বে পারদ চড়ছে, বিশেষ করে সেলেসাও শিবিরে টেকনিক্যাল ও ট্যাকটিক্যাল একাধিক পরিবর্তনের গুঞ্জন এই ম্যাচকে আরও রোমাঞ্চকর করে তুলেছে।
নেইমারের রাজকীয় প্রত্যাবর্তন ও আনচেলত্তির ৪-২-১-৩ ছক
ম্যাচের আগে উইঙ্গার রাফিনহার চোট নিয়ে কিছুটা দুশ্চিন্তা থাকলেও, ব্রাজিলিয়ান ভক্তদের জন্য সবচেয়ে বড় স্বস্তির খবর হলো দলে ফিরছেন পোস্টার বয় নেইমার জুনিয়র। দীর্ঘ চোটের অন্ধকার অধ্যায় পেরিয়ে এই মেগা ম্যাচ দিয়েই হলুদ জার্সিতে প্রত্যাবর্তন ঘটছে ফুটবল জাদুকরের।
ফুটবল মহলের ধারণা, স্কটিশ রক্ষণভাগ ভাঙতে কোচ কার্লো আনচেলত্তি প্রথাগত ফরমেশন ভেঙে আক্রমণাত্মক ৪-২-১-৩ ছকে দল সাজাচ্ছেন। এই ছকের মূল চালিকাশক্তি হবেন নেইমার। তাকে আক্রমণভাগের ঠিক পেছনে একদম 'ফ্রি রোলে' বা 'নাম্বার টেন' পজিশনে খেলাবেন আনচেলত্তি, যাতে তিনি নিজের ইচ্ছেমতো মাঠের যেকোনো প্রান্তে গিয়ে খেলা তৈরি করতে পারেন।
রক্ষণ ও মাঝমাঠের নিপুণ ভারসাম্য
আনচেলত্তির এই রণকৌশলে গোলপোস্টের নিচে বরাবরের মতোই বিশ্বস্ত দেয়াল হয়ে থাকবেন অভিজ্ঞ অ্যালিসন বেকার। রক্ষণভাগের সেন্ট্রাল ডিফেন্সে মারকিনিওসের সঙ্গী হচ্ছেন গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েস। দুই ফুল-ব্যাক পজিশনে দেখা যাবে দানিলো এবং ডগলাস সান্তোসকে।
মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ শুরুতেই নসাৎ করার মূল দায়িত্ব থাকছে দুই কড়া প্রহরী কাসেমিরো এবং ব্রুনো গুইমারায়েসের কাঁধে। এই ডাবল-পিভট (Double Pivot) মাঝমাঠের ভারসাম্য ধরে রাখবে, যা নেইমারকে রক্ষণাত্মক চাপমুক্ত হয়ে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে আক্রমণ গড়ে তোলার লাইসেন্স দেবে। ভিনিসিয়াস-এন্দ্রিক ত্রাস: আক্রমণভাগে গতি ও যৌবনের মেলবন্ধন
গতি এবং সৃজনশীলতার এক মারাত্মক মেলবন্ধন দেখা যাবে ব্রাজিলের আক্রমণভাগে। রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ভিনিসিয়াস জুনিয়রের গতি এবং ড্রিবলিং বাঁ-প্রান্ত দিয়ে স্কটিশ ডিফেন্সকে ব্যস্ত রাখবে। সেন্ট্রাল স্ট্রাইকার হিসেবে বক্সের ভেতর পজিশনিং ও ফিনিশিংয়ের দায়িত্বে থাকবেন ম্যাথিউস কুনহা। আর ডান প্রান্তে ফুটবল বিশ্বের নতুন বিস্ময়বালক এন্দ্রিকের অন্তর্ভুক্তি ব্রাজিলের আক্রমণকে বহুগুণ ধারালো করে তুলবে। নেইমারের নিখুঁত পাসিং আর এই ত্রয়ীর গতি—সব মিলিয়ে একটি 'অল-অ্যাটাকিং' দলই মাঠে নামাচ্ছেন ইতালিয়ান মাস্টারমাইন্ড আনচেলত্তি।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও সুপারকম্পিউটারের ভবিষ্যদ্বাণী
ম্যাচটি ঘিরে মাঠের বাইরেও চলছে নানা সমীকরণ। স্থানীয় আবহাওয়া দপ্তরের ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাসের কারণে ম্যাচটি নির্দিষ্ট সময়ে মাঠেড়ানো নিয়ে কিছুটা শঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে ম্যাচটি যথাসময়ে হলে পরিসংখ্যান ও শক্তিমত্তায় ব্রাজিলই পরিষ্কার ফেভারিট। আধুনিক ফুটবল ডেটা অ্যানালিটিক্স এবং সুপারকম্পিউটারের ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী, এই ম্যাচে ব্রাজিলের জয়ের সম্ভাবনা প্রায় ৭০ শতাংশ, যেখানে স্কটল্যান্ডের জয়ের সম্ভাবনা মাত্র ১৫ শতাংশ এবং বাকি ১৫ শতাংশ ম্যাচ ড্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের টিকিট এবং আত্মবিশ্বাস দুটিই অক্ষুণ্ণ রাখার লড়াইয়ে ফুটবল বিশ্বের নজর এখন ১০ নম্বর জার্সিটির দিকে। দীর্ঘ বিরতির পর নেইমার আবারও তার পুরোনো সাম্বা জাদু ফিরিয়ে এনে ব্রাজিলকে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন করতে পারেন কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
এক নজরে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ব্রাজিলের সম্ভাব্য লাইন-আপ:
মন্তব্য করুন