
ফুল-টাইম বাঁশি বাজার পর স্কোরবোর্ড বলছিল পর্তুগাল ৫, উজবেকিস্তান ০। বিশ্বমঞ্চে নিখুঁত এক ফুটবল প্রদর্শনীতে উজবেক ডিফেন্সকে খড়কুটোর মতো উড়িয়ে দিল সেলেসাওরা। তবে এই বিশাল ও একচেটিয়া জয়ের রাতেও পর্তুগিজ শিবিরের একমাত্র আক্ষেপ হয়ে রইল অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর হ্যাটট্রিকটি না পাওয়া। হ্যাটট্রিকের একাধিক সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া হলেও, আগের ম্যাচের তীব্র সমালোচনাকে জোড়া গোল দিয়ে যেভাবে এই কিংবদন্তি ধূলিসাৎ করেছেন, তা এক কথায় অবিশ্বাস্য।
সমালোচনা থেকে রাজকীয় প্রত্যাবর্তন
টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে ডিআর কঙ্গোর (DR Congo) বিপক্ষে পর্তুগালের ১–১ গোলে ড্রয়ের ম্যাচে ভীষণ নিষ্প্রভ ছিলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। সেই অফ-ফর্মের কারণে চারপাশ থেকে ধেয়ে এসেছিল তীব্র সমালোচনা। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছিলেন ৪১ বছর বয়সী এই তারকার কার্যকারিতা নিয়ে। কিন্তু উজবেকিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নেমেই চিরচেনা আগ্রাসী রূপে সেই সব সমালোচনার চড়া জবাব দিলেন সিআরসেভেন।
ম্যাচের গোল উৎসব ও টাইমলাইন: পর্তুগালের আক্রমণভাগের সামনে পুরো ৯০ মিনিট কেবল আত্মসমর্পণই করেছে উজবেকিস্তান। ম্যাচের গোলগুলো এসেছে যেভাবে: ০৬ মিনিট (১-০): ম্যাচের শুরুতেই দলকে এগিয়ে নেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ১৭ মিনিট (২-০): ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ডিফেন্ডার নুনো মেন্দেজ (Nuno Mendes)। ৩৯ মিনিট (৩-০): প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করেন রোনালদো। ৬০ মিনিট (৪-০): কর্নার থেকে তৈরি জটলায় উজবেক ডিফেন্ডার/গোলরক্ষক নেমাতভের (Nematov) আত্মঘাতী গোল। ৮৭ মিনিট (৫-০): বদলি হিসেবে নামা উইঙ্গার রাফায়েল লিয়াও (Rafael Leão) ডান পায়ের বাঁকানো শটে শেষ পেরেকটি ঠোকেন।
রোনালদোর হ্যাটট্রিক মিসের সেই একমাত্র আক্ষেপ ম্যাচে পর্তুগালের জন্য যদি কোনো অপূর্ণতা থেকে থাকে, তবে তা হলো রোনালদোর হ্যাটট্রিক। প্রথমার্ধেই জোড়া গোল করার পর দ্বিতীয়র্ধে সিআরসেভেনকে হ্যাটট্রিক পাইয়ে দিতে মরিয়া ছিল পুরো দল। সুযোগ যে তিনি পাননি তা নয়, উজবেকিস্তানের নড়বড়ে ডিফেন্সের কারণে একাধিকবার বক্সের ভেতর বল পেয়েছিলেন তিনি। কখনো উজবেক কিপারের দারুণ সেভ, আবার কখনো শট লক্ষ্যে না থাকায় হ্যাটট্রিকটা আর ছোঁয়া হয়নি তাঁর। ম্যাচের শেষদিকে রাফায়েল লিয়াও নিজেই ফিনিশ করায় হ্যাটট্রিকের অপেক্ষাটা কেবল আক্ষেপেই রূপ নেয়।
তবে হ্যাটট্রিক না পেলেও এই ম্যাচটি ছিল রোনালদোর রাজকীয়ভাবে চেনা ছন্দে ঘুরে দাঁড়ানোর। এই জোড়া গোল পর্তুগালকে শুধু বড় জয়ই এনে দেয়নি, বরং নকআউট পর্বের আগে পুরো দলের আত্মবিশ্বাসকে নিয়ে গেছে এক ভিন্ন উচ্চতায়।
মন্তব্য করুন