
যশোরের বাঘারপাড়ায় ধান ক্রয়-বিক্রয়কে কেন্দ্র করে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় আহত যুবক সাহাবী একমাস পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এতে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। সাহাবী হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে লাশবাহী খাটিয়া নিয়ে মিছিল করেছেন এলাকাবাসী।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) বেলা ১১টায় উপজেলার রায়পুর বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সামনে জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
নিহত সাহাবী (১৯) বাঘারপাড়ার রায়পুর ইউনিয়নের রায়পুর গ্রামের হানিফার ছেলে। ছুরিকাঘাতের ঘটনায় ছেলের সঙ্গে হানিফাও (৪৫) আহত হন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ মে সকালে রায়পুর বাজারে ধান বিক্রি করতে আসেন হানিফা ও তার ছেলে সাহাবী। প্রতি মণ ১ কেজি করে বেশি ধান মেপে আনলেও বাজারের ক্রেতা রায়পুর গ্রামের হাসান মণ্ডল ও তার ছেলে সাকিব ওজন করে ১ মণের কম দেখান। এ নিয়ে বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে সাকিব ধারালো ছুরি দিয়ে হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। এ সময় হানিফা ও সাহাবীর পেটের ডান পাশে গুরুতর জখম হয়। স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাদের উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় সাহাবীকে। সোমবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
এদিকে, সাহাবী হত্যার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। মঙ্গলবার বেলা ১১টায় জানাজা পূর্ববর্তী সংক্ষিপ্ত সভায় হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের আটকের দাবি জানান বক্তারা। জানাজা শেষে সাহাবীর লাশবাহী খাটিয়া নিয়ে এলাকাবাসী মিছিল বের করে। এর আগে সোমবার রাতে তার লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স রায়পুর বাজারে পৌঁছালে স্বজনদের আহাজারিতে হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এ সময় সাহাবী হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের আটকের দাবিতে ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের সামনে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন এলাকাবাসী।
মন্তব্য করুন