
ফুটবল মাঠে লিওনেল মেসি মানেই নাটকীয়তা, আর ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এক অবিশ্বাস্য আবেগের রোলারকোস্টার। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে হাইভোল্টেজ ম্যাচে প্রথমে পেনাল্টি মিসের চরম হতাশা, আর পরবর্তীতে দুর্দান্ত জোড়া গোল করে দলকে জেতানো, সব মিলিয়ে বিশ্বমঞ্চে আরও একটি মহাকাব্যিক অধ্যায় লিখলেন আর্জেন্টাইন জাদুকর। মেসির এই জাদুকরী প্রত্যাবর্তনে অস্ট্রিয়াকে হারিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের ‘রাউন্ড অব ৩২’ বা শেষ ৩২-এর টিকিট এক প্রকার নিশ্চিত করে ফেলল আলবিসেলেস্তেরা।
ম্যাচের সংক্ষিপ্ত সমীকরণ: ফলাফল: আর্জেন্টিনা জয়ী (লিওনেল মেসির জোড়া গোল)। ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট: ৪ মিনিটে মেসির পেনাল্টি মিস এবং দ্বিতীয়ার্ধে অস্ট্রিয়া বক্সে মেসি-ঝড়। বিশ্বকাপ সমীকরণ: ৪৮ দলের নতুন ফরম্যাটে গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে নকআউটের প্রথম ধাপ অর্থাৎ ‘শেষ ৩২’ নিশ্চিত করল আর্জেন্টিনা।
৪ মিনিটেই পেনাল্টি মিসের স্তব্ধতা!
ম্যাচ শুরু হতে না হতেই অস্ট্রিয়ার রক্ষণভাগ ভেঙে পেনাল্টি আদায় করে নেয় আর্জেন্টিনা। গ্যালারিতে তখন উল্লাসের গর্জন, সবাই ধরেই নিয়েছিলেন মেসি সহজেই বল জালে জড়াবেন। কিন্তু স্পট কিকে শট নিতে এসে সবাইকে স্তম্ভিত করে দেন এলএমটেন। ম্যাচের বয়স তখন মাত্র ৪ মিনিট। মেসি তাঁর বাঁ পায়ের শটটি অস্ট্রিয়ান গোলরক্ষকের ডান দিকের পোস্টের বাইরে মারেন! অস্ট্রিয়ার গোলকিপার আলেকজান্ডার শ্লাজার অবশ্য মেসির শটের দিক সঠিকভাবে অনুমান করে সেই দিকেই ডাইভ দিয়েছিলেন। তবে মেসির শটটি পোস্টের বাইরে থাকায় অস্ট্রিয়া এক চরম বিপদ থেকে রক্ষা পায়। পেনাল্টি মিসের পর আর্জেন্টিনার ডাগআউট ও গ্যালারিতে তখন পিনপতন নীরবতা।
অস্ট্রিয়া বক্সে ‘মেসি-ঝড়’ ও কাঙ্ক্ষিত গোল
শুরুর সেই ধাক্কা মেসিকে যে দমাতে পারেনি, তার প্রমাণ মিলল ম্যাচের পরের অংশেই। খেসারত দিতে মরিয়া মেসি অস্ট্রিয়ার ডি-বক্সের ভেতরে রীতিমতো ছোটখাটো একটা ঝড়ই বইয়ে দিলেন। আর সেই ঝড়ের শেষ হাসিটি হাসলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক নিজেই। আর্জেন্টিনার একটি ক্ষিপ্র আক্রমণে প্রথমে তরুণ স্ট্রাইকার হুলিয়ান আলভারেজ অস্ট্রিয়ার রক্ষণভাগ চূর্ণ করে একটি জোরালো শট নেন। কিন্তু বলটি অস্ট্রিয়ান ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে বক্সের ভেতরেই ফিরে আসে। ওঁত পেতে থাকা মেসি দ্রুত ফিরতি বলের নিয়ন্ত্রণ নেন এবং চমৎকার ড্রিবলিংয়ে সামনে থাকা এক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে শট নেন। কিন্তু এবারও বাধা! মেসির সেই শটটি অস্ট্রিয়ার আরেক ডিফেন্ডার গোললাইন থেকে কোনোমতে ঠেকিয়ে দেন।
তবে অস্ট্রিয়ান ডিফেন্সের শেষ রক্ষাও হয়নি। দ্বিতীয়বার ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে বলটি আবারও ফিরে আসে মেসির পায়েই। এবার আর কোনো ভুল করেননি ফুটবল জাদুকর। ঠাণ্ডা মাথায় তৃতীয় প্রচেষ্টায় নিখুঁত শটে বল জালে জড়িয়ে দেন তিনি। পুরো অস্ট্রিয়া বক্সকে স্তব্ধ করে দিয়ে বুনো উল্লাসে মেতে ওঠে আর্জেন্টিনার পুরো দল। এরপর ম্যাচে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করে দলের জয় এবং জোড়া গোল পূর্ণ করেন মেসি।
শেষ ৩২-এর নতুন সমীকরণ
২০২৬ সালের ৪৮ দলের নতুন বিশ্বকাপ ফরম্যাট অনুযায়ী, গ্রুপ পর্বের বাধা পার করার পর দলগুলোকে এখন সরাসরি শেষ ১৬-র আগে ‘রাউন্ড অব ৩২’ বা শেষ ৩২-এর নকআউট রাউন্ড খেলতে হবে। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে এই ঐতিহাসিক জয়ের পর আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে থাকা আর্জেন্টিনা এখন গ্রুপ পর্বের শীর্ষস্থান ধরে রেখে শেষ ৩২-এর রণকৌশল সাজাতে পুরোপুরি প্রস্তুত।
মন্তব্য করুন