
দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার হিলি বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিপ্রতি দাম ৫ টাকা কমেছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যের দাম কমে বর্তমানে ৩৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এতে স্বস্তি ফিরেছে নিম্নআয়ের ও সাধারণ ভোক্তাদের মধ্যে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) হিলি বাজার ঘুরে দেখা যায়, বাজারের প্রায় সব দোকানেই পর্যাপ্ত পরিমাণ পেঁয়াজ মজুত রয়েছে। সরবরাহ বাড়ার ফলে বাজারে দামও নিম্নমুখী হয়েছে। কয়েকদিন আগেও যে পেঁয়াজ ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছিল, বর্তমানে তা ৩৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
পেঁয়াজ কিনতে আসা স্থানীয় বাসিন্দা আরিফুল ইসলাম বলেন, নিম্ন আয়ের কারণে পরিবারের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনাকাটায় তাদের বেশ চাপের মধ্যে থাকতে হয়। পেঁয়াজের দাম ৪০ টাকা কেজিতে পৌঁছানোর পর প্রয়োজন অনুযায়ী কেনাকাটা করা কঠিন হয়ে পড়েছিল।
তিনি জানান, অতিরিক্ত দামের কারণে চাহিদার তুলনায় কম পরিমাণ পেঁয়াজ কিনতে বাধ্য হচ্ছিলেন। তবে বর্তমানে দাম ৫ টাকা কমে ৩৫ টাকায় নেমে আসায় কিছুটা স্বস্তি মিলেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে দাম আরও কমবে এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকবে।
হিলি বাজারের পেঁয়াজ বিক্রেতা সাকিল আহমেদ বলেন, কয়েকদিন আগে বৈরী আবহাওয়ার কারণে মোকামে পেঁয়াজের সরবরাহে সাময়িক ঘাটতি দেখা দেয়। এর ফলে পাইকারি বাজারে দাম বেড়ে যায় এবং খুচরা পর্যায়ে ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে হয়েছিল।
তিনি জানান, বর্তমানে মোকামে সরবরাহ আগের তুলনায় বেড়েছে। এখন পাইকারি বাজার থেকে ৩৩ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ কেনা যাচ্ছে এবং খরচ যোগ করে ৩৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হচ্ছে। সরবরাহের এই ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী দিনে পেঁয়াজের দাম আরও কিছুটা কমতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের দিনাজপুর কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক বোরহান উদ্দিন বলেন, কেউ যাতে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে পেঁয়াজের দাম বাড়াতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসন নিয়মিত নজরদারি চালাচ্ছে।
তিনি বলেন, বাজারে নিয়মিত অভিযান ও পরিদর্শনের মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা কোন দামে পণ্য কিনছেন এবং বিক্রি করছেন তা যাচাই করা হচ্ছে। কোনো ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে অতিরিক্ত মূল্য আদায়ের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে আর্থিক জরিমানাসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন