
দুর্দান্ত এক ফ্রি-কিকে বিশ্বকাপে দেশের ইতিহাসে প্রথম গোলটি করলেন কেভিন পিনা। উল্লাসে ফেটে পড়ল পুরো কেপ ভার্দ শিবির। সেই ধাক্কা সামলে অবশ্য সাত মিনিটের ব্যবধানে দুই গোল করে ম্যাচে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল উরুগুয়ে। তবে নাটকীয়তার তখনও বাকি ছিল। শেষ মুহূর্তে আরেকটি গোল আদায় করে নিয়ে, আরও একটি স্মরণীয় পারফরম্যান্সে পয়েন্ট ভাগাভাগি করল বিশ্বকাপের ইতিহাসে তৃতীয় ক্ষুদ্রতম দেশ কেপ ভার্দ।
ফ্লোরিডার মায়ামি গার্ডেন্সে বাংলাদেশ সময় সোমবার ভোরে ‘এইচ’ গ্রুপের এই রোমাঞ্চকর ম্যাচটি ২-২ গোলে ড্র হয়েছে।
ম্যাচে পিছিয়ে পড়ার পর প্রথমার্ধেই মাক্সি আরাউহো উরুগুয়েকে সমতায় ফেরান। এরপর দলটিকে এগিয়ে নেন আউতি কানোবিও। তবে দ্বিতীয়ার্ধে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে নেমে কেপ ভার্দকে সমতায় ফেরান এলিও ভ্যারেলা।
বিশ্বকাপের অভিষেক আসরে নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচেই অপরাজিত রইল চার হাজার বর্গকিলোমিটার আয়তন আর মাত্র পাঁচ লাখ ৯৩ হাজার জনসংখ্যার এই দেশটি। নিজেদের প্রথম ম্যাচে ৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক ভজিনিয়ার অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্সে সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ও বর্তমান ইউরো জয়ী স্পেনের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করেছিল কেপ ভার্দ। এবার দুইবারের সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন উরুগুয়েকেও রুখে দিল তারা। দলটির এমন পথচলা সত্যিই অবিশ্বাস্য!
বর্তমানে দুই ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের শীর্ষে অবস্থান করছে স্পেন। ২ পয়েন্ট করে নিয়ে উরুগুয়ে দ্বিতীয় ও কেপ ভার্দ তৃতীয় স্থানে রয়েছে। আর ১ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তলানিতে আছে সৌদি আরব।
ম্যাচের পরিসংখ্যান বলছে, ৬৫ শতাংশ সময় বল দখলে রেখে গোলের উদ্দেশ্যে মোট ১৭টি শট নিয়েছিল উরুগুয়ে, যার মধ্যে মাত্র দুটি শট লক্ষ্যে ছিল। অন্যদিকে, কেপ ভার্দের ১২টি শটের মধ্যে চারটি ছিল অন-টার্গেট।
গোলরক্ষককে খুব একটা পরীক্ষায় ফেলতে পারছিল না। উল্টো ২৩তম মিনিটে চমক জাগিয়ে এগিয়ে যায় কেপ ভার্দ। প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে নেওয়া এক ফ্রি-কিকে, রক্ষণ দেয়ালের দুই খেলোয়াড়ের মাঝ দিয়ে জোরাল শটে লক্ষ্যভেদ করেন কেভিন পিনা। চলতি বিশ্বকাপে সরাসরি ফ্রি-কিক থেকে এটি দ্বিতীয় গোলের ঘটনা।
গোলের জন্য টানা ৯টি লক্ষ্যভ্রষ্ট শটের পর, ৪৪তম মিনিটে প্রথম কোনো সফল প্রচেষ্টা চালায় উরুগুয়ে এবং তা থেকেই সমতা ফেরায় তারা। প্রতিপক্ষের ক্রস ক্লিয়ার করতে বক্সে লাফিয়ে উঠেছিলেন কেপ ভার্দের ডিফেন্ডার লোপেস কাব্রাল। তার হেডটি নিজেদের পোস্টে লেগে ফিরে আসলে, কাছেই থাকা মাক্সি আরাউহো ডাইভিং হেডে ফাঁকা জালে বল পাঠান। সৌদি আরবের বিপক্ষেও এর আগে দলকে সমতায় ফিরিয়েছিলেন এই ফরোয়ার্ড।
সেই গোলের রেশ কাটতে না কাটতেই প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে (৪৫+৬ মিনিট) এগিয়ে যায় উরুগুয়ে। এই গোলেও বড় অবদান রাখেন মাক্সি আরাউহো। মানুয়েল উগার্তের ক্রস থেকে আরাউহোর হেড পাসে, ছয় গজ বক্সের বাইরে থেকে চমৎকার ভলিতে ঠিকানা খুঁজে নেন আউতি কানোবিও।
তবে ৬১তম মিনিটে কেপ ভার্দের আরেকটি আকস্মিক আক্রমণে স্কোরলাইন ২-২ হয়। অবশ্য এই গোলটি উরুগুয়ে হজম করেছে নিজেদের ভুলেই। ডিফেন্ডার মাতিয়াস অলিভেরার একটি দুর্বল ব্যাক-পাস ক্লিয়ার করতে বক্সের বেশ খানিকটা বাইরে বেরিয়ে আসেন উরুগুয়ের গোলরক্ষক। কিন্তু তার আগেই ছোঁ মেরে বল কেড়ে নেন মিনিট তিনেক আগে বদলি হিসেবে মাঠে নামা এলিও ভ্যারেলা। দূর থেকে নিখুঁত শটে ফাঁকা জালে বল পাঠান তিনি।
এর কিছুক্ষণ পর উরুগুয়ে আরেকবার প্রতিপক্ষের জালে বল পাঠালেও অফসাইডের কারণে তা বাতিল হয়ে যায়। নির্ধারিত সময়ের খেলা শেষ হওয়ার চার মিনিট আগে উরুগুয়ে আরও একটি সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল, তবে বেন্তানকুরের জোরাল শটটি কেপ ভার্দের রক্ষণভাগে প্রতিহত হয়। ম্যাচের বাকি সময়ে দুপক্ষই কিছু সুযোগ তৈরি করলেও জালের দেখা পায়নি কেউ।
গ্রুপ পর্বের শেষ রাউন্ডে বাংলাদেশ সময় আগামী শনিবার সকালে উরুগুয়ে মাঠে নামবে স্পেনের বিপক্ষে। একই সময়ে সৌদি আরবের মুখোমুখি হবে কেপ ভার্দ। ফলে দুই ম্যাচ শেষেও কেপ ভার্দের সামনে নকআউট পর্বে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশ ভালোভাবেই টিকে রইল।
মন্তব্য করুন