
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি ভবিষ্যতেও ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের নিয়ন্ত্রণেই থাকবে। তার মতে, এই জলপথ আর কখনোই “যুদ্ধ-পূর্ব অবস্থায়” ফিরে যাবে না।
সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ইরান–যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা শেষে দেশে ফিরে তিনি এই মন্তব্য করেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ তার বক্তব্য প্রকাশ করে।
গালিবাফ জানান, সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টক এলাকায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে ইরান উল্লেখযোগ্য কূটনৈতিক অগ্রগতি অর্জন করেছে। তার দাবি অনুযায়ী, আলোচনায় হরমুজ প্রণালি, লেবানন পরিস্থিতি, ইরানের তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং জব্দকৃত অর্থ ফেরত দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
তার ভাষায়, এসব ইস্যুতে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে, যা ভবিষ্যৎ সম্পর্ক উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে।
অন্যদিকে, বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, জব্দকৃত ইরানি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় ওয়াশিংটন ও কাতার যৌথভাবে একটি বিশেষ কাঠামো তৈরি করছে।
তার দাবি অনুযায়ী, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে যে ইরানের অবমুক্ত অর্থ কোনো ধরনের সন্ত্রাসবাদে ব্যবহার না হয় এবং তা সাধারণ জনগণের কল্যাণে ব্যয় হয়। পাশাপাশি ওই অর্থের কিছু অংশ দিয়ে মার্কিন পণ্য ক্রয়ের বিষয়টিও উৎসাহিত করা হবে বলে তিনি জানান।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক আলোচনা মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত করতে পারে। তবে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে বড় ধরনের মতপার্থক্য এখনো রয়ে গেছে।
ফলে ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক আলোচনা কতটা সফল হবে, তা নির্ভর করছে দুই পক্ষের বাস্তবসম্মত সমঝোতার ওপর।
মন্তব্য করুন