
পাবনার বেড়া উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য পরিচালিত স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় ছত্রাকযুক্ত (ফাঙ্গাস আক্রান্ত) পাউরুটি বিতরণের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
জানা গেছে, গত শনিবার (২০ জুন) উপজেলার ৫ নম্বর নতুন ভারেঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ করা কিছু পাউরুটিতে কালো দাগ ও ছত্রাকের উপস্থিতি দেখতে পান অভিভাবকরা। এরপর তারা বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেন।
সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর বাবা বিল্লাল হোসেন প্রথমে ছত্রাকযুক্ত পাউরুটি নিয়ে প্রধান শিক্ষক মো. মোক্তার হোসেনের কাছে অভিযোগ জানান। পরে আরও কয়েকজন অভিভাবক একই ধরনের অভিযোগ উত্থাপন করেন।
অভিভাবকদের ভাষ্য, শিক্ষার্থীদের জন্য সরবরাহকৃত খাবারের মান নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব। দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে এমন খাবার বিতরণ হওয়া উদ্বেগজনক। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এসব পাউরুটি খেয়ে কোনো শিক্ষার্থী অসুস্থ হলে তার দায়ভার কে নেবে—সেই প্রশ্নও উঠছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতায় গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় দেশের ১৫০টি উপজেলায় স্কুল ফিডিং কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এর অংশ হিসেবে বেড়া উপজেলার ১১৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাউরুটি, কলা, বিস্কুট ও ডিম সরবরাহ করা হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রখর ফুড অ্যান্ড বেভারেজ ইন্ডাস্ট্রি উৎপাদিত পাউরুটি গ্রাম উন্নয়ন কর্ম (গাক)-এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলোতে সরবরাহ করা হয়ে থাকে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মোক্তার হোসেন বলেন, “বিতরণ করা পাউরুটির প্যাকেটে উৎপাদনের তারিখ ১৯ জুন এবং মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ ২৩ জুন উল্লেখ ছিল। তবে পরে কয়েকটি পাউরুটিতে কালো দাগ ও ছত্রাকের উপস্থিতি দেখতে পেয়ে অভিভাবকরা অভিযোগ করেন।”
তিনি জানান, বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান গাকের স্থানীয় প্রতিনিধিকে অবহিত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে গ্রাম উন্নয়ন কর্ম (গাক)-এর বেড়া উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বেড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “ছত্রাকযুক্ত পাউরুটি বিতরণের অভিযোগ পাওয়ার পর প্রধান শিক্ষককে সতর্ক করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুনাল্ট চাকমা বলেন, “ঘটনাটি সম্পর্কে আমি অবগত হয়েছি। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
স্থানীয় অভিভাবকরা দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন