
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলায় অতি দরিদ্র কর্মসংস্থান কর্মসূচির আওতায় ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ দুটি খাল পুনঃখননের ফলে বদলে যেতে শুরু করেছে গ্রামীণ জনপদের চিত্র। দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনের পাশাপাশি কৃষিজমিতে পানি নিষ্কাশনের সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় একাধিক ফসল উৎপাদনের নতুন সম্ভাবনা দেখছেন সাধারণ কৃষকরা।
দুটি ইউনিয়নের ১০ থেকে ১২টি গ্রামের প্রায় ৮ হাজার পরিবারের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধান হচ্ছে এই প্রকল্পের মাধ্যমে। হাজার হাজার বিঘা ফসলি জমি থেকে পানি দ্রুত নিষ্কাশনের সুযোগ তৈরি হওয়ায় কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির পথ সুগম হচ্ছে। প্রায় ২ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত প্রকল্পে খালের দুই পাশ দিয়ে চলাচলের জন্য মাটির রাস্তা নির্মাণ, সামাজিক বনায়নের আওতায় ৫ হাজার ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ, মিষ্টি পানি সংরক্ষণ, খাবার পানির সংকট নিরসন, ছোট ছোট কাঠের সেতু নির্মাণ এবং ফসলি মাঠের পানি নিষ্কাশনে পাইপলাইন স্থাপনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
স্থানীয় কৃষকরা সরকারের এ সময়োপযোগী ও বাস্তবমুখী উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
মঙ্গলবার সরেজমিনে জানা যায়, ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রকল্প বাস্তবায়ন অধিদপ্তরের উদ্যোগে অতি দরিদ্রদের কর্মসংস্থান কর্মসূচির অধীনে উপজেলার বলইবুনিয়া ইউনিয়নের বলইবুনিয়া মোল্লারজোর থেকে আমবাড়িয়া গাজীবাড়ি পর্যন্ত ৪ কিলোমিটার এবং খাউলিয়া ইউনিয়নের সন্ন্যাসী স্লুইসগেট সংলগ্ন এলাকা থেকে সাবেক চেয়ারম্যান আবুল খয়েরের খেজুরবাড়ি পর্যন্ত আরও ৪ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের কাজ চলছে।
প্রতিটি প্রকল্পে ২৩৮ জন করে অতিদরিদ্র শ্রমিক কাজ করছেন। এর ফলে একদিকে যেমন তাদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে, অন্যদিকে পরিবারগুলোর আর্থিক অবস্থারও উন্নতি ঘটছে। একই সঙ্গে বলইবুনিয়া ইউনিয়নের আমবাড়িয়া, বাঁশবাড়িয়া, পাতাবাড়িয়া এবং খাউলিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম বরিশাল, মধ্য বরিশাল, মানিকজোর, খেজুরবাড়িয়া, উত্তর খেজুরবাড়িয়া, মধ্যম খেজুরবাড়িয়া ও সন্ন্যাসীসহ আশপাশের গ্রামের মানুষ জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাচ্ছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রাচীন এ দুটি খাল বছরের পর বছর পলি জমে ভরাট হয়ে প্রায় অস্তিত্ব হারিয়ে ফেলেছিল। ফলে পানি চলাচল বন্ধ হয়ে গিয়ে বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানি ফসলি মাঠে জমে থাকত এবং জলাবদ্ধতার কারণে কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতো। পুনঃখননের ফলে খালগুলো আবারও প্রাণ ফিরে পাচ্ছে এবং কৃষকরা একাধিক ফসল উৎপাদনের আশা করছেন।
খাল খনন কাজে নিয়োজিত শ্রমিক পান্না মিয়া, মিজান শেখ, রফিকুল ইসলাম, রেনু বেগম, বিউটি বেগম ও ফুলমিয়াসহ অন্যরা জানান, নিজ গ্রামের উন্নয়নমূলক কাজে অংশ নিতে পেরে তারা আনন্দিত। প্রতিদিন ৫০০ টাকা মজুরি পেয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে স্বচ্ছন্দে চলতে পারছেন। তাদের মতে, খাল পুনঃখননের ফলে জলাবদ্ধতা দূর হবে এবং কৃষকরা নতুন নতুন ফসল আবাদ করতে পারবেন।
খাউলিয়া ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান ও খাল খনন কমিটির সদস্য সচিব বিটুল বিশ্বাস বলেন, খাল পুনঃখননের ফলে ইউনিয়নের কয়েক হাজার পরিবার জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে মুক্তি পাচ্ছে। একই সঙ্গে কৃষি উৎপাদনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। তিনি প্রকল্প বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আহসান উল্লাহ বলেন, অতি দরিদ্রদের কর্মসংস্থান কর্মসূচির আওতায় উপজেলার দুটি ইউনিয়নে মোট ৮ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের কাজ চলছে। এর ফলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, জলাবদ্ধতা নিরসন, মিষ্টি পানি সংরক্ষণ এবং খাবার পানির সংকট দূরীকরণসহ দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ প্রকল্প এ অঞ্চলের কৃষি ও জনজীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন বয়ে আনবে।
মন্তব্য করুন