
আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) চলতি বছরে আরও সুদের হার বাড়াতে পারে—এমন জোরালো প্রত্যাশার ফলে মার্কিন ডলার শক্তিশালী হয়েছে। এর প্রভাবেই নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে পরিচিত স্বর্ণের চাহিদা কমে গিয়ে বিশ্ববাজারে মূল্যবান এই ধাতুর দাম উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ১ দশমিক ৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,১১৯ দশমিক ১৩ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে আগস্ট সরবরাহ চুক্তিভিত্তিক মার্কিন স্বর্ণ ফিউচারের দাম ১ দশমিক ৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,১৩৭ দশমিক ১০ ডলারে দাঁড়ায়।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ডলারের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় অন্যান্য দেশের বিনিয়োগকারীদের জন্য স্বর্ণ কেনা তুলনামূলকভাবে বেশি ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের চাহিদা কমে যাচ্ছে।
কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, চলতি সপ্তাহে তেলের দাম কিছুটা কমায় স্বর্ণের বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা ছিল। তবে শক্তিশালী মার্কিন ডলারের কারণে সেই সুবিধা পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারেনি স্বর্ণ।
সিএমই ফেডওয়াচ টুলের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আগামী ডিসেম্বর মাসে ফেড সুদের হার বাড়াতে পারে—এমন সম্ভাবনা বর্তমানে ৮৮ শতাংশে পৌঁছেছে। মাত্র এক সপ্তাহ আগে এই সম্ভাবনা ছিল ৬১ শতাংশ।
সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা সাধারণত ডলারের চাহিদা বাড়ায় এবং স্বর্ণের মতো সুদবিহীন সম্পদের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কমিয়ে দেয়। ফলে স্বর্ণের বাজারে বিক্রির চাপ বৃদ্ধি পায়।
বিনিয়োগকারীরা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক আলোচনার অগ্রগতির ওপরও নজর রাখছেন। একটি প্রাথমিক শান্তি উদ্যোগের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র আগামী ৬০ দিনের জন্য ইরানের ওপর আরোপিত কিছু অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করেছে।
মার্কিন প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে চলমান দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ পরিস্থিতি ও তীব্র উত্তেজনা কমানোর আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে লেবানন সংঘাতের ক্ষেত্রেও একটি দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধবিরতি বা বিরতি এসেছে।
সুইজারল্যান্ডে ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এই সংলাপ একটি চূড়ান্ত ও স্থায়ী শান্তি চুক্তির জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক ভিত্তি তৈরি করেছে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তবে এর বিপরীতে ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রর সঙ্গে নতুন করে কোনো ধরনের আলোচনা শুরু করার বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে।
অন্যদিকে শিকাগো ফেডের প্রেসিডেন্ট অস্টান গুলসবি জানিয়েছেন যে দেশের শ্রমবাজার স্থিতিশীল থাকায় উচ্চ শুল্কের নেতিবাচক প্রভাব হ্রাস পেলে এবং মধ্যপ্রাচ্যের এই রাজনৈতিক সংকটের স্থায়ী সমাধান হলে মার্কিন মুদ্রাস্ফীতি বর্তমান উচ্চ স্তর থেকে কতটা কমবে তা তারা পর্যবেক্ষণ করছেন।
বিনিয়োগকারীরা ফেডের আগামী দিনের আর্থিক নীতি ও সুদের হারের অবস্থান সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পেতে চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে প্রকাশিতব্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যক্তিগত ভোগব্যয় বা পিসিই মূল্যসূচকের দাপ্তরিক তথ্যের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।
আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের এই দরপতনের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও আজ উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। স্পট মার্কেটে রুপার দাম এক ধাক্কায় ৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬২ দশমিক ৫৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া প্ল্যাটিনামের দাম ২ শতাংশ কমে ১ হাজার ৬৪৪ দশমিক ৭৫ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম ২ দশমিক ৩ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ১ হাজার ২৩৬ দশমিক ৫০ ডলারে নেমে এসেছে।
সূত্র: রয়টার্স
মন্তব্য করুন