
মাঠজুড়ে তখন টানটান উত্তেজনা, গ্যালারিতে দর্শকদের মুহুর্মুহু করতালি। রাজধানীর কমলাপুরের ঐতিহ্যবাহী বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামেগত সোমবার (২২ জুন) বিকালে বসেছিল দেশের তরুণ ফুটবলের এক জমকালো আসর। জাতীয় অনূর্ধ্ব-১৭ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে জামালপুর জেলা ফুটবল একাদশকে টাইব্রেকারের স্নায়ুযুদ্ধে ৪-২ গোলে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে মাগুরা জেলা ফুটবল একাদশ।
নির্ধারিত সময়ের মাঠের লড়াই ছিল সমানে সমান। আক্রমণ আর পাল্টা-আক্রমণে ম্যাচটি জমে উঠলেও দুই দলের রক্ষণভাগের দৃঢ়তায় খেলা শেষ হয় গোলশূন্য ড্রয়ে। এরপরই আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ, টাইব্রেকার রোমাঞ্চ। সেখানে চরম ধীরস্থিরতা আর নিখুঁত পারফরম্যান্স প্রদর্শন করে ৪-২ গোলে জামালপুরকে স্তব্ধ করে দেয় মাগুরার দামাল ছেলেরা। ট্রফি জয়ের পাশাপাশি চ্যাম্পিয়ন দল হিসেবে মাগুরা জেলা দল তিন লাখ টাকার প্রাইজমানি নিজেদের করে নেয়।
মাগুরা জেলার এই ঐতিহাসিক বিজয়ের নেপথ্যে সবচেয়ে বড় ভূমিকা ছিল মহম্মদপুর উপজেলার ফুটবলারদের। জেলা দলে এই উপজেলার খেলোয়াড়দের আধিক্য যেমন ছিল চোখে পড়ার মতো, তেমনই মাঠের পারফরম্যান্সেও তারা ছড়িয়েছে দ্যুতি। মহম্মদপুরের ছয় কৃতি ফুটবলার; রেজোয়ান, ইয়ামিন, খাইরুল, মামুন, আলামিন এবং মাজহারুল পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে তাদের ফুটবল শৈলী দিয়ে দর্শকদের মন জয় করে নিয়েছে। পুরো টুর্নামেন্টে অসাধারণ ক্রীড়ানৈপুণ্য প্রদর্শন করে ‘ম্যান অব দ্য টুর্নামেন্ট’ (সেরা খেলোয়াড়) নির্বাচিত হয়ে জেলাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে মহম্মদপুরের গর্ব ইয়ামিন।
মহম্মদপুরের এই তরুণ তুর্কিদের হাত ধরে মাগুরার ফুটবল আজ এক নতুন দিগন্তে পদার্পণ করল। তৃণমূল থেকে উঠে আসা এই ছয় ফুটবলারের এমন জাতীয় পর্যায়ের সাফল্য মাগুরা জেলাসহ মহম্মদপুর উপজেলার ক্রীড়াঙ্গনে আনন্দের বন্যা বইয়ে দিয়েছে। স্থানীয় ক্রীড়ামোদী ও বোদ্ধাদের মতে, যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এই তরুণরাই একদিন জাতীয় দলের জার্সি গায়ে দেশের ফুটবল অঙ্গনে প্রতিনিধিত্ব করবে।
মন্তব্য করুন