
বিশ্বকাপ মঞ্চে নরওয়ের স্বপ্নযাত্রা আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল আর্লিং হল্যান্ডের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে। তার জোড়া গোলে সেনেগালকে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ ষোলো তথা নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করেছে স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশটি।
মঙ্গলবার নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে আবারও নিজের গোল করার অসাধারণ ধারাবাহিকতা ধরে রাখেন হল্যান্ড। জাতীয় দলের হয়ে টানা ষষ্ঠ ম্যাচে দুটি করে গোল করে তিনি ফুটবল বিশ্বে নিজের আধিপত্য আরও দৃঢ় করেছেন।
নরওয়ে সর্বশেষ বিশ্বকাপ খেলেছিল ১৯৯৮ সালে। সেই আসরে ইতালির কাছে হেরে শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল দলটিকে। দীর্ঘ ২৮ বছর পর বিশ্বমঞ্চে ফিরে এবার প্রথম ধাপ সফলভাবে পেরিয়ে নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে হল্যান্ড ও মার্টিন ওডেগার্ডের নেতৃত্বাধীন দল।
নকআউট নিশ্চিত হওয়ার পর নরওয়ের ফুটবলাররা তাদের ঐতিহ্যবাহী ‘ভাইকিং নৌকা’ উদযাপনের মাধ্যমে আনন্দ প্রকাশ করেন, যা ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
মাত্র ২৫ বছর বয়সেই নরওয়ের সর্বকালের অন্যতম সেরা গোলস্কোরারে পরিণত হয়েছেন আর্লিং হল্যান্ড। জাতীয় দলের হয়ে ৫২ ম্যাচে তার গোলসংখ্যা এখন ৫৯।
আরও বিস্ময়কর বিষয় হলো, নিজের শেষ ছয় আন্তর্জাতিক ম্যাচে তিনি মোট ১২ গোল করেছেন। অর্থাৎ প্রতিটি ম্যাচেই করেছেন জোড়া গোল। বিশ্বকাপে অভিষেক আসরেই নরওয়ের হয়ে সর্বাধিক গোলের রেকর্ডও এখন তার দখলে। মাত্র দুই ম্যাচে চার গোল করে তিনি সেই কীর্তি গড়েছেন।
ম্যাচের প্রথমার্ধের শেষ দিকে, ৪৩তম মিনিটে নরওয়েকে এগিয়ে দেন বদলি খেলোয়াড় মার্কুস পেডারসেন। ইনজুরিতে পড়া এক সতীর্থের পরিবর্তে মাঠে নেমেই দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ গোলটি করেন তিনি।
দ্বিতীয়ার্ধে শুরু হয় হল্যান্ডের শো। ৪৮তম মিনিটে প্রথম গোল করে ব্যবধান বাড়ান তিনি। এরপর ৫৮তম মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করে নরওয়েকে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন।
সেনেগালের হয়ে ৫৩তম মিনিটে গোল করে সমতা ফিরিয়েছিলেন ইসমাইলা সার। পরে যোগ করা সময়ে (৯৩তম মিনিট) আরেকটি গোল করে ম্যাচে নাটকীয়তার আভাস দিলেও শেষ পর্যন্ত পরাজয় এড়াতে পারেনি আফ্রিকান দলটি।
এই জয়ের ফলে গ্রুপ ‘আই’ থেকে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে নরওয়ে ও ফ্রান্স। এখন গ্রুপসেরা হওয়ার লড়াইয়ে শুক্রবার মুখোমুখি হবে দুই দল। সেই ম্যাচের ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে নকআউট পর্বে অপেক্ষাকৃত সহজ প্রতিপক্ষ পাওয়ার সম্ভাবনা।
অন্যদিকে, টুর্নামেন্ট থেকে এখনও ছিটকে যায়নি সেনেগাল। তবে বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো টানা দুই ম্যাচে হারের তিক্ত অভিজ্ঞতা পাওয়া সাদিও মানের দলকে এখন শেষ ম্যাচে ইরাকের বিপক্ষে বড় ব্যবধানে জিততে হবে। তবেই তৃতীয় স্থানের দল হিসেবে পরবর্তী পর্বে ওঠার সম্ভাবনা বেঁচে থাকবে।
বিশ্বকাপের শুরু থেকেই দুর্দান্ত ফর্মে থাকা আর্লিং হল্যান্ড এখন গোল্ডেন বুটের অন্যতম দাবিদার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। তার ধারাবাহিক গোল এবং নেতৃত্বে নরওয়ে শুধু নকআউটেই ওঠেনি, বরং শিরোপার লড়াইয়েও নিজেদের শক্ত অবস্থানের বার্তা দিয়েছে। স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশটির সমর্থকরা এখন স্বপ্ন দেখছেন—১৯৯৮ সালের সীমাবদ্ধতা পেরিয়ে এবার আরও দূর যাওয়ার।
মন্তব্য করুন