
ভারতের উত্তর প্রদেশের রাজধানী লক্ষ্ণৌতে একটি তিনতলা বাণিজ্যিক ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অন্তত ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১২ জনই শিশু বলে জানিয়েছে প্রশাসন। সোমবার (২২ জুন) শহরের আলীগঞ্জ এলাকায় সংঘটিত এই মর্মান্তিক ঘটনায় আরও অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। ঘটনার পর রাজ্য সরকার উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও উদ্ধারকারী সূত্র জানায়, আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি ভবনের ভেতরে ঘন কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। প্রাণ বাঁচানোর শেষ চেষ্টা হিসেবে কয়েকজন ভবনের শৌচাগারে আশ্রয় নিয়ে ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে দিয়েছিলেন। তবে পরে উদ্ধারকারীরা সেখান থেকেই তাদের মরদেহ উদ্ধার করেন।
উত্তর প্রদেশের উপমুখ্যমন্ত্রী ব্রজেশ পাঠক জানান, নিহতদের মধ্যে প্রায় এক ডজন শিশু রয়েছে। তিনি ঘটনাটিকে অত্যন্ত হৃদয়বিদারক আখ্যা দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন।
প্রশাসনের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, তিনতলা ভবনের নিচতলায় একটি পোষা প্রাণীর দোকান পরিচালিত হতো। ভবনের উপরের তলাগুলোতে গ্রাফিকস ও অ্যানিমেশন প্রশিক্ষণকেন্দ্র এবং একটি লাইব্রেরি ছিল।
ভবনটির মালিক হিসেবে বীরেন্দ্র শুক্লার নাম উঠে এসেছে। তার ছেলে অখিলেশ শুক্লা সেখানে গ্রাফিকস প্রশিক্ষণকেন্দ্র পরিচালনা করতেন। অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে তারা দুজনই পলাতক রয়েছেন। পুলিশ তাদের বাসভবনে অভিযান চালালেও কাউকে খুঁজে পায়নি। ভবনটিতে অন্য কোনো বাণিজ্যিক কার্যক্রম চলত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের ১৪টি ইউনিট কাজ করে। ভবনের ওপরের তলায় পৌঁছাতে উদ্ধারকর্মীরা হাইড্রোলিক প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আমান জানান, ভবন থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখে তিনি ও আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তাদের সহায়তায় ৫ থেকে ৬ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। তিনি আরও জানান, আতঙ্কের মধ্যে একজনকে ভবন থেকে লাফ দিতে দেখেছেন।
ঘটনার পর গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দেন।
প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে নিহতদের প্রত্যেক পরিবারের জন্য দুই লাখ রুপি এবং আহতদের জন্য ৫০ হাজার রুপি করে সহায়তা দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ ঘটনাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত উদ্ধারকাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সতর্ক অবস্থানে থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন।
মন্তব্য করুন