
প্রথম ম্যাচের অফ-ফর্মের কারণে ধেয়ে এসেছিল তীব্র সমালোচনা। অনেকেই হয়তো খাতা থেকে বাদই দিয়ে দিয়েছিলেন ৪১ বছর বয়সী এই মহাতারকাকে। কিন্তু তিনি যে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো! সমালোচকদের মাঠের পারফরম্যান্স দিয়ে কীভাবে জবাব দিতে হয়, তা তাঁর চেয়ে ভালো ফুটবল ইতিহাসে আর কে জানে? উজবেকিস্তানের বিপক্ষে মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে প্রথমার্ধেই জোড়া গোল করে সেই সব সমালোচনার জবাব দিলেন রাজকীয়ভাবে। একই সাথে পর্তুগালের ফুটবল কিংবদন্তি ইউসেবিওকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপের মঞ্চে দেশের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার সিংহাসনে আরোহণ করলেন সিআরসেভেন (CR7)।
সমালোচনার জবাব মাঠেই দিলেন সিআরসেভেন
প্রথম ম্যাচের পারফরম্যান্সের পর ফুটবলপ্রেমী ও বিশ্লেষকদের একাংশ ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর ফর্ম নিয়ে ব্যাপকভাবে সমালোচনা করেছিলেন। তবে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে শুরু থেকেই চেনা আগ্রাসী মেজাজে দেখা গেছে পর্তুগিজ অধিনায়ককে। ম্যাচের বিরতিতে যাওয়ার আগেই নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করে সমালোচকদের সব আলোচনাকে মাঠের পারফরম্যান্স দিয়ে স্তব্ধ করে দেন তিনি।
৩৯ মিনিটে ব্রুনোর পাস ও ইউসেবিওর রেকর্ড ভাঙা
ম্যাচের ৩৯ মিনিটে দেখা মেলে পর্তুগালের চমৎকার টিম গেমের। মাঝমাঠ থেকে মাঝমাঠের জেনারেল ব্রুনো ফার্নান্দেজের বাড়ানো নিখুঁত এক পাস ডি-বক্সের ভেতর নিয়ন্ত্রণে নেন রোনালদো। এরপর দারুণ এক ক্লিনিক্যাল ফিনিশিংয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন এই মহাতারকা। এটি ছিল ম্যাচে রোনালদোর ব্যক্তিগত দ্বিতীয় এবং পর্তুগালের হয়ে ম্যাচের তৃতীয় গোল।
এই গোলের সাথে সাথেই গড়া হয়ে যায় নতুন এক ইতিহাস: ইউসেবিওর রেকর্ড ভাঙা: এতদিন বিশ্বকাপে ৯টি গোল নিয়ে পর্তুগালের সর্বোচ্চ গোলদাতা ছিলেন কিংবদন্তি ইউসেবিও। শীর্ষে রোনালদো: উজবেকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করে ইউসেবিওকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপে রোনালদোর গোল সংখ্যা এখন ১০টি। নতুন কীর্তি: বিশ্বমঞ্চে পর্তুগালের ফুটবল ইতিহাসে এখন এককভাবে সবার ওপরে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো।
প্রথমার্ধের এই বিধ্বংসী রূপের পর ম্যাচটি এখন পুরোপুরি পর্তুগালের নিয়ন্ত্রণে। রোনালদো যে এখনো ফুরিয়ে যাননি, বরং বিশ্বমঞ্চে রাজত্ব করতেই এসেছেন, তা আরও একবার প্রমাণিত হলো।
মন্তব্য করুন
২৩ জুন ২০২৬, ১০:৩১ এএম
২৩ জুন ২০২৬, ০৭:৫১ পিএম