
ইরানের ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। তিনি বলেছেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো ইরানেরও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র রাখার বৈধ অধিকার রয়েছে। তাই শুধু ইরানের ক্ষেত্রে এই কর্মসূচির ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা আন্তর্জাতিক অঙ্গনের একটি স্পষ্ট দ্বিচারিতা।
মঙ্গলবার ইসলামাবাদে সফররত ইরানের রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে অনুষ্ঠিত যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এসব মন্তব্য করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি এবং ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’-এর বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে শেহবাজ শরিফ স্পষ্টভাবে জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’-এ ইরানের ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।
তিনি বলেন, আমি পূর্ণ দায়িত্ব নিয়ে বলতে পারি, এই সমঝোতায় ক্ষেপণাস্ত্রের কোনো উল্লেখ নেই। এটি আলোচনার টেবিলে ছিল না, আলোচ্যসূচির অংশও ছিল না। এমনকি ইরানি প্রতিনিধিরাও এ বিষয়ে কোনো আলোচনা করতে আগ্রহ প্রকাশ করেননি।
বৈঠকে আন্তর্জাতিক রাজনীতির দ্বিমুখী নীতির কঠোর সমালোচনা করে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বে কোনো ধরনের দ্ব্যর্থবোধক নীতি থাকতে পারে না, যেখানে কিছু নির্দিষ্ট দেশ ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের অধিকারী হতে পারবে আর ইরান তা পারবে না। এই ধরনের কপটতা কোনোভাবেই হজম করা সম্ভব নয়।’ তিনি একই সঙ্গে সতর্ক করে দেন যে বৈশ্বিক কিছু কুচক্রী মহল বা ‘স্পয়লার্স’ এই শান্তি চুক্তিটিকে নস্যাৎ করার জন্য নানামুখী অপতৎপরতা চালাচ্ছে, যেন একটি মহান জাতি হিসেবে ইরান যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে আবার ঘুরে দাঁড়াতে না পারে।
উল্লেখ্য যে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েল যৌথ সামরিক সংঘাত শুরু হওয়ার পর এটিই ছিল ইরানের রাষ্ট্রপতির প্রথম বিদেশ সফর। গত ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের সফল মধ্যস্থতায় এই যুদ্ধের অবসান ঘটে এবং বিগত সপ্তাহে একটি আনুষ্ঠানিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।
এই শান্তি আলোচনা ও যুদ্ধবিরতি প্রক্রিয়াকে সফল করতে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক সমর্থন দেওয়ায় তুরস্ক, কাতার, সৌদি আরব এবং মিসরের রাষ্ট্রপ্রধানদের প্রতি বিশেষ ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন শেহবাজ শরিফ। আগামী সপ্তাহে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করতে তিনি তেহরান সফর করবেন বলে নিশ্চিত করেছেন।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
মন্তব্য করুন