
যশোর শহরের চাঁচড়া এলাকায় চেতনানাশক স্প্রে ব্যবহার করে এক ব্যাংক কর্মকর্তার কাছ থেকে ১২ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় এনামুল শেখ নামে এক যুবককে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। মঙ্গলবার মধ্যরাতে ঢাকার কামরাঙ্গীরচর এলাকার রসুলপুর বালুরমাঠ থেকে তাকে আটক করা হয়।
আটক এনামুল শেখ বাগেরহাট সদর উপজেলার নুনাডাঙা গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ঢাকার কামরাঙ্গীরচরে ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
বুধবার বিকেলে তাকে যশোর আদালতে হাজির করা হলে তিনি ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। আদালত তার জবানবন্দি গ্রহণ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী মো. খলিলুর রহমান (৩৮) মণিরামপুর উপজেলার খেদাপাড়া কৃষি ব্যাংক শাখার ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি উপজেলার বিগড়কোনা গ্রামের বাসিন্দা এবং বর্তমানে যশোর শহরের ফায়ার সার্ভিসের পশ্চিম পাশে বসবাস করেন।
গত ১৯ জানুয়ারি দুপুর ১টার দিকে ব্যক্তিগত প্রয়োজনের জন্য খেদাপাড়া কৃষি ব্যাংক শাখা থেকে ১২ লাখ টাকা উত্তোলন করেন খলিলুর রহমান। পরে টাকা একটি কালো হাতব্যাগে রেখে মোটরসাইকেলে যশোর শহরের উদ্দেশে রওনা দেন।
পথে দুপুর ১টা ২০ মিনিটের দিকে একটি মোবাইল নম্বর থেকে তার ফোনে কল আসে। কলকারী নিজেকে ব্যাংকে টাকা জমা দিতে আগ্রহী একজন গ্রাহক হিসেবে পরিচয় দিয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চান। এ সময় খলিলুর রহমান যশোরের চাঁচড়া কাঁচাবাজার এলাকায় দেখা করার কথা জানান।
দুপুর ১টা ৪০ মিনিটের দিকে তিনি চাঁচড়া কাঁচাবাজার এলাকায় পৌঁছালে ২ থেকে ৩ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি তার কাছে আসে। একপর্যায়ে তাদের একজন তার সঙ্গে করমর্দন করে কথোপকথন শুরু করে। এ সময় তার নাক-মুখের সামনে হাত এনে কোনো চেতনানাশক স্প্রে প্রয়োগ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে তিনি অস্বাভাবিক ও অসংলগ্ন অনুভব করতে থাকেন। কিছু সময় পর স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসে তিনি দেখতে পান, তার হাতব্যাগের চেইন খোলা এবং ভেতরে থাকা ১২ লাখ টাকা উধাও।
ঘটনার পরদিন ২০ জানুয়ারি যশোর কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে ডিবি পুলিশ। তদন্তের একপর্যায়ে এনামুলের অবস্থান শনাক্ত করে মঙ্গলবার রাতে তাকে আটক করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মন্তব্য করুন