
গাজা যুদ্ধের অবসান এবং মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনার এক পর্যায়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে এক গোপন ফোনালাপকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় মঙ্গলবার প্রকাশিত রেজিম চেঞ্জ নামের একটি বইয়ে দাবি করা হয়েছে, গাজা যুদ্ধ চলাকালীন ওই ফোনালাপে ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে অত্যন্ত কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেন এবং ইহুদি সম্প্রদায়ের ভেতরের অসন্তোষ সম্পর্কেও মন্তব্য করেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বইটিতে বলা হয়, ফোনালাপে ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে উদ্দেশ্য করে বলেন—“সবাই তোমার ওপর বিরক্ত, বিবি। সব ইহুদিই তোমার ওপর বিরক্ত।” বই অনুযায়ী, তিনি তার জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং মার্কিন শান্তি দূত স্টিভ উইটকফের কথাও উল্লেখ করেন, যারা সেই সময় আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন।
তবে এসব দাবি এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি এবং এটি একটি বইয়ের বর্ণনার ভিত্তিতে উপস্থাপিত তথ্য।
বইয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ট্রাম্পের ঘোষিত ২০ দফা গাজা শান্তি পরিকল্পনার খসড়ার পেছনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ছিল কাতারের দোহায় হামাস লক্ষ্য করে ইসরায়েলের বিমান হামলা। ওই ঘটনায় কাতারের এক নিরাপত্তা সদস্য নিহত হলে আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।
এ সময় জ্যারেড কুশনার ক্ষোভ প্রকাশ করে ইসরায়েলি নীতির সমালোচনা করেন বলে বইটিতে দাবি করা হয়েছে এবং পরে এই পরিস্থিতিকে চাপ সৃষ্টির সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করে শান্তি পরিকল্পনার খসড়া তৈরি করা হয়।
পরবর্তীতে কুশনার কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল থানির সঙ্গে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে আলোচনা করেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এরপর ট্রাম্প ফোনালাপে নেতানিয়াহুকে জানান, “ইসরায়েলের সবচেয়ে ভালো বন্ধু আমি, সবাই তোমাকে ঘৃণা করে, কিন্তু আমি তোমার পাশে আছি”—এমন কড়া মন্তব্যের কথাও বইটিতে উল্লেখ আছে।
এই ফোনালাপের দুই দিনের মধ্যেই ২০২৫ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু যৌথভাবে শান্তি পরিকল্পনা ঘোষণা করেন বলে দাবি করা হয়, যা পরে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সমর্থন পায়।
বইটিতে আরও বলা হয়েছে, ফেব্রুয়ারিতে সম্ভাব্য ইরান হামলার আগে হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে নীতি নির্ধারণী বৈঠক হয়। সেখানে নেতানিয়াহু ইরানে সরকার পরিবর্তনের সময় এসেছে বলে মন্তব্য করেন।
তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও পরবর্তী বৈঠকে ওই প্রস্তাবকে কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেন বলে বইয়ে দাবি করা হয়েছে।
সিচুয়েশন রুমের এই সমস্ত গোপনীয় ও সংবেদনশীল আলোচনা এবং এপস্টেইন ফাইলস ও ইরান যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলার অভ্যন্তরীণ রেকর্ড ফাঁস হয়ে বইটিতে বিস্তারিতভাবে প্রকাশ পাওয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভীষণ ক্ষুব্ধ হয়েছেন বলে জানা গেছে।
সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ
মন্তব্য করুন