
ভেনিজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। প্রথম ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৭.২ এবং দ্বিতীয়টির মাত্রা ছিল ৭.৫। শক্তিশালী এই জোড়া ভূকম্পনে রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নিরাপত্তার জন্য হাজার হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় আশ্রয় নেন।
স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যা ৬টা ৪ মিনিটে মন্টালবান এলাকাকে কেন্দ্র করে ভূমিকম্পগুলো আঘাত হানে বলে জানিয়েছে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস)। কম্পন শুধু রাজধানীতেই সীমাবদ্ধ ছিল না; দেশের আরও বেশ কয়েকটি রাজ্যে এর প্রভাব অনুভূত হয়েছে।
ভূমিকম্পের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা গেছে, বহু ভবনে বড় ধরনের ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। কিছু ভবন আংশিক বা সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে বলেও খবর পাওয়া গেছে। আতঙ্কিত বাসিন্দাদের অনেকেই পরবর্তী কম্পনের আশঙ্কায় নিজেদের অ্যাপার্টমেন্টে ফিরতে সাহস পাচ্ছেন না।
ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভে (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, বুধবার সন্ধ্যায় পরপর দুটি ভূমিকম্পে রাজধানী এবং পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলো কেঁপে ওঠার পর ভেনেজুয়েলায় ব্যাপক হতাহতের আশঙ্কা এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে।
ইউএসজিএস বলছে, এই দুর্যোগ সম্ভবত ব্যাপক এবং এর পরে সম্ভাব্য তীব্র কম্পনসহ আফটারশক হতে পারে।
সংস্থাটির মতে, ১০ হাজারের বেশি প্রাণহানির সম্ভাবনা ৪৪ শতাংশ এবং ১ লাখের বেশি প্রাণহানির সম্ভাবনা ৩০ শতাংশ। এছাড়াও ভূমিধস এবং মাটিতে তরলীকরণের উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি রয়েছে।
তরলীকরণ হলো ভূমিকম্পের সময় আলগা পলিমাটির একটি ঘটনা, যা পার্শ্বীয় ভূমিধসের অনুরূপ।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা জানিয়েছে, রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে কারাবোবো রাজ্যে প্রাথমিকভাবে ৭.১ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এর পরপরই ৭.৫ মাত্রার আরেকটি মূল কম্পন অনুভূত হয়। এই জোড়া ভূকম্পনের ফলে ভবনগুলো দুলতে থাকে এবং বাসিন্দারা আতঙ্কে রাস্তায় নেমে আসে।
সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করা ভিডিওতে দেখা গেছে, কিছু ভবনে ফাটল ধরেছে, সেগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বা ধসে পড়েছে এবং হাজার হাজার বাসিন্দা পরবর্তী কম্পনের ভয়ে এতটাই উদ্বিগ্ন যে তারা তাদের অ্যাপার্টমেন্টে ফিরতে পারছেন না।
দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিওসদাদো ক্যাবেলো রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে নিশ্চিত করেছেন যে কিছু ভবন ধসে পড়েছে। কলম্বিয়ার রাজধানী বোগোটা পর্যন্ত এই কম্পন অনুভূত হয়েছিল।
ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়, কারণ ভেনেজুয়েলার কর্তৃপক্ষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো মূল্যায়ন করে চলেছে। উদ্ধারকারীরা ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপে তল্লাশি চালাচ্ছেন। একজন প্রত্যক্ষদর্শী রয়টার্সকে জানান, “আমার ভবনের বেশ কয়েকটি দেয়াল ভেঙে গেছে বা ফাটল ধরেছে।”
পূর্ব কারাকাসের বাসিন্দা ৫৬ বছর বয়সী কোরো মার্টিনেজ জানান, ভূমিকম্পের সময় একটি “অত্যন্ত জোরালো শব্দ” শোনা যায়। তার ভাষায়, বাড়ির ভেতরের জিনিসপত্র ছিটকে পড়েছিল, এমনকি ফ্রিজের ভেতরের জগও মেঝেতে পড়ে যায়। জীবনে আগে কখনও এমন অভিজ্ঞতা হয়নি।
অন্যদিকে, পেনশনভোগী মারিয়া রোমেরো এই দুর্যোগকে ১৯৬৭ সালের কারাকাসের ভয়াবহ ভূমিকম্পের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, এটি তার চেয়েও ভয়ঙ্কর বলে মনে হয়েছে।
সূত্র বিবিসি।
মন্তব্য করুন