
উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপে নতুন ইতিহাস লিখল আইভরি কোস্ট। নবাগত কুরাসাওয়ের রূপকথা থামিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে আফ্রিকান পরাশক্তিরা।
ফিলাডেলফিয়ায় বৃহস্পতিবার গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে কুরাসাওকে ২-০ গোলে হারিয়েছে তারা। দলের ঐতিহাসিক জয়ে জোড়া গোল করে নায়ক বনে গেছেন ফরোয়ার্ড নিকোলাস পেপে।
এই জয়ের ফলে ‘ই’ গ্রুপে ৩ ম্যাচে ২ জয় ও ১ হারে ৬ পয়েন্ট নিয়ে রানার্সআপ হিসেবে পরের রাউন্ড নিশ্চিত করল আইভরি কোস্ট। এর আগে ২০০৬ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত টানা তিন আসরে অংশ নিলেও প্রতিবারই গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল তাদের।
আইভরি কোস্টের সমান ৬ পয়েন্ট নিয়েও মুখোমুখি লড়াইয়ে এগিয়ে থেকে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ইউলিয়ান নাগেলসমানের জার্মানি। গ্রুপের অন্য ম্যাচে জার্মানিকে ২-১ গোলে হারিয়ে চমক দেখালেও ৪ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে একুয়েডর। তবে সেরা আটটি তৃতীয় স্থানাধিকারী দলের একটি হিসেবে একুয়েডরও পৌঁছে গেছে শেষ বত্রিশে।
অন্যদিকে, জার্মানির কাছে ৭-১ গোলে বিধ্বস্ত হওয়ার পর একুয়েডরকে গোলশূন্য ড্রয়ে রুখে দেওয়া কুরাসাও মাত্র ১ পয়েন্ট নিয়ে বিদায় নিল আসর থেকে।
ম্যাচের প্রথমার্ধের খেলা ছিল অনেকটাই নিষ্প্রাণ। বলের নিয়ন্ত্রণে আইভরি কোস্ট আধিপত্য দেখালেও আক্রমণে তেমন ধার ছিল না। অন্যদিকে কুরাসাও-ও উল্লেখযোগ্য কোনো আক্রমণ শাণাতে পারেনি। প্রথমার্ধে দুই দলই মাত্র একটি করে শট পোস্টে রাখতে পেরেছিল।
তবে সপ্তম মিনিটে কুরাসাওয়ের রক্ষণের দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে লিড নেয় আইভরি কোস্ট। বাম দিকের বক্সের বাইরে প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে বল পান ইয়ান ডায়মন্ড। বাইলাইনের একটু ওপর থেকে তাঁর নিখুঁত কাটব্যাকে চমৎকার ট্যাপে বল জালে জড়ান নিকোলাস পেপে। ৩৯তম মিনিটে কুরাসাওয়ের তাহিথ চং দূরপাল্লার শট নিলেও তা লক্ষ্যের বাইরে চলে যায়।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুটা ঢিমেতালে হলেও সময় বাড়ার সাথে সাথে আক্রমণের ধার বাড়ায় আইভরি কোস্ট। ৫৩তম মিনিটে ব্যবধান বাড়ানোর সহজ সুযোগ নষ্ট করেন ফ্রাঙ্ক কেসিয়ে। বক্সের ওপর থেকে তাঁর নেওয়া শট ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে কর্নার হলে রক্ষা পায় কুরাসাও।
ম্যাচের ৬৪তম মিনিটে সাঙ্গারের রক্ষণ চেরা পাসে বল পান নিকোলাস পেপে। কুরাসাওয়ের ডিফেন্ডার স্লাইড করেও বলের নাগাল পাননি। চমৎকার এক বাঁ পায়ের কোণাকুণি শটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে দলকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন পেপে। একুয়েডর ম্যাচে ১৫টি সেভ করা কুরাসাও গোলরক্ষক ইলয় রুম ঝাঁপালেও এবার আর বল আটকাতে পারেননি।
শেষের দিকে আইভরি কোস্টের ওয়াহির একটি আক্রমণ রুখে দিয়ে গোলরক্ষক রুম কিছুটা ঝলক দেখালেও ততক্ষণে কুরাসাওয়ের বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেছে। শেষ বাঁশি বাজতেই প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বে ওঠার উল্লাসে মেতে ওঠে আইভরি কোস্ট।
মন্তব্য করুন