
যশোরের মণিরামপুরে একাধিক ঘের দখলকারী সাবেক ছাত্রলীগ নেতা বিপ্লব বিশ্বাস স্থানীয়দের হাতে আটক হওয়ার পর মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে মুক্তি পেয়েছেন—এমন অভিযোগ উঠেছে। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে তিনি আত্মগোপনে চলে গেছেন বলে এলাকাবাসীর দাবি।
এলাকাবাসী জানান, উপজেলার ঝাঁপা ইউনিয়নের কোমলপুর গ্রামের মালোপাড়ার শিবপদ বিশ্বাসের দুই ছেলের মধ্যে বড় ছেলে সুব্রত বিশ্বাস আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। ছোট ছেলে বিপ্লব বিশ্বাস ছিলেন যশোর এমএম কলেজ ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক।
অভিযোগ রয়েছে, বিগত সরকারের সময় প্রভাব খাটিয়ে বিপ্লব বিশ্বাস ঝাঁপা গ্রামের অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী জাকির হোসেনের একটি বড় ঘের দখল করেন। এছাড়া তুহিন নামে এক বিএনপি কর্মীর পুকুর দখলের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। পরে তিনি ঘের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হন এবং বিভিন্ন স্থানে একাধিক ঘের গড়ে তোলেন।
স্থানীয়দের দাবি, বর্তমানে তার মোট ছয়টি ঘের রয়েছে, যার মধ্যে লক্ষণপুর এলাকায় তিনটি ঘের রয়েছে। এসব ঘেরে নিরাপত্তার জন্য স্থানীয় এক মুসলিম যুবককে নিয়োগ দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, ওই নিরাপত্তাকর্মীর স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্কের জেরে এলাকায় পারিবারিক অশান্তি সৃষ্টি হয় এবং পরে তিনি পিতার বাড়ি পাড়িয়ালী গ্রামে চলে যান।
এদিকে উপজেলা জাতীয় পার্টির সদ্য পদত্যাগকারী সভাপতি এমএ হালিমের সঙ্গে অংশীদারিত্বে পাড়িয়ালী গ্রামের পাশে বিল শালিকায় জমি লিজ নিয়ে দুটি নতুন ঘের নির্মাণ করেন বিপ্লব বিশ্বাস। এ সুবাদে তিনি ওই নারীর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বুধবার (তারিখ উল্লেখ নেই) বিকেলে পাড়িয়ালী গ্রামের একটি কক্ষে এক নারীর সঙ্গে অবস্থানকালে এলাকাবাসী বিপ্লব বিশ্বাসকে মোটরসাইকেলসহ আটক করে। পরে একটি প্রভাবশালী মহলকে অর্থের বিনিময়ে ম্যানেজ করে তিনি ছাড়া পান বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে এমএ হালিম বলেন, ঘটনার পর থেকে বিপ্লব তার ফোন রিসিভ করছেন না।
এদিকে রাজগঞ্জ বাজারে বিপ্লব বিশ্বাসের মালিকানাধীন ‘ভাই ভাই মৎস্য আড়ত’ বন্ধ পাওয়া গেছে। ঘটনার পর থেকে জনরোষ থেকে রক্ষা পেতে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানান।
তার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
মন্তব্য করুন