
ম্যাচের শুরুর সপ্তম মিনিটেই দুই গোলের লিড। ওখানেই মূলত ঠিক হয়ে গিয়েছিল ম্যাচের ভাগ্য। বাকি সময়েও সেই আধিপত্য ধরে রেখে তিউনিসিয়াকে অনায়াসে হারিয়ে দিল নেদারল্যান্ডস। এই জয়ে গ্রুপ সেরা হয়েই বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে পা রাখল ডাচরা।
একই সাথে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় শেষ বত্রিশে শক্তিশালী ব্রাজিলকে এড়াতে পেরেছে রোনাল্ড কুমানের শিষ্যরা। কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে তাদের প্রতিপক্ষ মরক্কো।
ক্যানসাস সিটিতে গ্রুপ পর্বের শেষ রাউন্ডের ম্যাচে ৩-১ গোলের সহজ জয় পেয়েছে নেদারল্যান্ডস। ডাচদের হয়ে একটি করে গোল করেন ব্রায়ান ব্রবি ও ইয়ান পল ফন হেকে, অন্য গোলটি আসে আত্মঘাতী থেকে। তিউনিসিয়ার পক্ষে একমাত্র সান্ত্বনাসূচক গোলটি করেন হাজেম মাস্তুরি।
তিন ম্যাচে দুই জয় ও এক ড্রয়ে ৭ পয়েন্ট নিয়ে 'এফ' গ্রুপের শীর্ষে থেকে পরের রাউন্ডে গেল নেদারল্যান্ডস। একই সময়ে গ্রুপের অন্য ম্যাচে সুইডেনের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে ৫ পয়েন্ট নিয়ে রানার্সআপ হয়েছে জাপান। ৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তিনে থাকা সুইডেনও সেরা তৃতীয় স্থানাধিকারী দল হিসেবে নকআউটের টিকিট কেটেছে। আর তিন ম্যাচের সবকটিতে হেরে শূন্য হাতে বিদায় নিল তিউনিসিয়া।
বাংলাদেশ সময় শুক্রবার ভোরে শুরু হওয়া ম্যাচে প্রথম আক্রমণেই লিড পায় ডাচরা। ম্যাচের তৃতীয় মিনিটে ডান দিক থেকে ডেনজেল ডামফ্রিজের বাড়ানো ক্রস ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজেদের জালেই জড়িয়ে দেন তিউনিসিয়ার অধিনায়ক ইলিয়াস স্কিহিরি।
আত্মঘাতী গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর ব্যবধান দ্বিগুণ করতে মাত্র চার মিনিট সময় নেয় নেদারল্যান্ডস। সপ্তম মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে বক্সে হেড করেন ভার্জিল ফন ডাইক। তিউনিসিয়ার ডিফেন্ডাররা বল বিপদমুক্ত করতে ব্যর্থ হলে দারুণ এক জোরালো ভলিতে বল জালে পাঠান ব্রায়ান ব্রবি।
ত্রয়োদশ মিনিটে ব্যবধান কমানোর সুযোগ পেয়েছিল তিউনিসিয়া, তবে বেন স্লিমেনের হেড সরাসরি ডাচ গোলরক্ষকের গ্লাভসে জমা পড়ে। প্রথমার্ধের বাকিটা সময় বল দখলে রেখে একচেটিয়া আধিপত্য দেখায় নেদারল্যান্ডস, তবে জালের দেখা মেলেনি আর।
বিরতির পর ম্যাচের ৫৪তম মিনিটে কর্নার থেকে দুর্দান্ত এক হেডে গোল করে তিউনিসিয়াকে ম্যাচে ফেরান হাজেম মাস্তুরি (২-১)। তবে তিউনিসিয়ার এই স্বস্তি স্থায়ী হয়েছে মাত্র আট মিনিট।
৬২তম মিনিটে কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে মাথা ছোঁয়ান ইয়ান পল ফন হেকে। বল প্রতিপক্ষের এক খেলোয়াড়ের মাথায় লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে জড়ালে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ডাচরা। ম্যাচের বাকি সময়ে আরও কিছু সুযোগ তৈরি হলেও গোল সংখ্যা আর বাড়েনি। ফলে ৩-১ গোলের দাপুটে জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে রোনাল্ড কুমানের দল।
মন্তব্য করুন