
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) তিন বিচারক যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। তাদের অভিযোগ, গত বছর আইসিসির বিচারকদের ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ছিল বেআইনি এবং বিচারিক স্বাধীনতায় সরাসরি হস্তক্ষেপের শামিল।
বুধবার নিউইয়র্কের ম্যানহাটন ফেডারেল আদালতে দায়ের করা মামলায় অংশ নেন কানাডার বিচারক কিম্বার্লি প্রোস্ট, উগান্ডার বিচারক সোলোমি বালুঙ্গি বোসা এবং বেনিনের বিচারক রেইন আলাপিনি-গানসু।
মামলার নথি অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসন আইসিসির কয়েকজন বিচারকের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। এর পেছনে মূল কারণ ছিল ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি এবং আফগানিস্তানে মার্কিন সেনাদের কথিত যুদ্ধাপরাধের তদন্ত কার্যক্রম।
বিচারকদের অভিযোগ, এসব নিষেধাজ্ঞা বিচারিক প্রক্রিয়ার বাইরে চাপ প্রয়োগের উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছিল। এর মাধ্যমে বিচারকদের শাস্তি দেওয়া, তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব বিস্তার করা এবং নতিস্বীকারে বাধ্য করার চেষ্টা করা হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়েছে, ‘আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইনের আওতায় এ ধরনের নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হওয়া কার্যত আর্থিক মৃত্যুদণ্ডের শামিল। এসব নিষেধাজ্ঞার কারণে বিচারক প্রোস্ট, বোসা এবং আলাপিনি-গানসু অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি আর ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করতে পারছেন না, ব্যাংকিং সেবা নিতে পারছেন না, সাধারণ অনলাইন প্ল্যাটফর্ম—যেমন অ্যামাজন ও গুগল—ব্যবহার করতে পারছেন না, ভ্রমণ বুক করতে পারছেন না এবং কিছু ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিমাও নিতে পারছেন না।’
বিচারকরা আরও দাবি করেছেন, এসব নিষেধাজ্ঞার কারণে তাদের সামনে বিচারাধীন কিংবা ভবিষ্যতের কোনো মামলায় প্রমাণ ও আইনি যুক্তি উপস্থাপন করাও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, গাজা সংঘাতে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ২০২৪ সালের নভেম্বরে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু, সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্ত এবং হামাস নেতা ইব্রাহিম আল-মাসরিসহসহ বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন আইসিসির বিচারকরা।
আইসিসি কী এবং কীভাবে কাজ করে? আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত বা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এর প্রধান লক্ষ্য হলো গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ, যুদ্ধাপরাধ এবং আগ্রাসনের মতো গুরুতর আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচার করা।
বর্তমানে আইসিসির সদস্য রাষ্ট্রের সংখ্যা ১২৫। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া এবং ইসরায়েল এখনো আদালটির সদস্য নয়।
তবে আইসিসির নিজস্ব কোনো গ্রেফতারকারী বাহিনী নেই। আদালত বিভিন্ন সদস্য রাষ্ট্রের সহযোগিতায় অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে এবং পরে নেদারল্যান্ডসের হেগ শহরে অবস্থিত আদালতের সদর দপ্তরে বিচারের জন্য হাজির করে।
এই মামলাটি আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থা, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা এবং বিচারিক স্বাধীনতার প্রশ্নে নতুন করে বৈশ্বিক বিতর্কের জন্ম দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সূত্র: রয়টার্স
মন্তব্য করুন