
এ যেন ইকুয়েডরের এক রূপকথার গল্প! ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটেই গোল হজম করে ব্যাকফুটে চলে গিয়েছিল দল। কিন্তু খেই হারায়নি একুয়েডর। শক্তিশালী জার্মানির বিপক্ষে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে তুলে নিল এক অবিস্মরণীয় জয়। এই স্মরণীয় জয়ে ভর করেই বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের (রাউন্ড অব ৩২) টিকিট নিশ্চিত করেছে লাতিন আমেরিকার দেশটি।
বৃহস্পতিবার নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ‘ই’ গ্রুপের শেষ রাউন্ডের নাটকীয় ম্যাচে জার্মানিকে ২-১ গোলে হারিয়েছে একুয়েডর।
৪৮ দলের এই বিশ্বকাপে ১২টি গ্রুপের প্রথম দুটি দল এবং সেরা আটটি তৃতীয় স্থানাধিকারী দল জায়গা পাচ্ছে রাউন্ড অব ৩২-এ। ৩ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ সেরা হয়ে আগেই নকআউট নিশ্চিত করেছিল চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি। সমান ৬ পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে রানার্সআপ হয়ে পরের ধাপে গেছে আইভরি কোস্ট। আর জার্মানিকে হারিয়ে ৩ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তিনে শেষ করেছে একুয়েডর।
সেরা আটটি তৃতীয় স্থানাধিকারী দলের একটি হিসেবে নকআউটে পা রাখল তারা। অন্যদিকে মাত্র ১ পয়েন্ট নিয়ে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে কুরাসাও।
বাঁচা-মরার এই ম্যাচে একুয়েডরের সামনে জয়ের কোনো বিকল্প ছিল না। উজ্জীবিত ফুটবল খেলে লক্ষ্য পূরণ করেছে তারা। ফুটবল ইতিহাসে জার্মানির বিপক্ষে তিনবারের দেখায় এটিই একুয়েডরের প্রথম জয়। পাশাপাশি, ২০০৬ সালের জার্মানি বিশ্বকাপের পর এই নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করল দলটি।
ম্যাচের শুরুটা অবশ্য একুয়েডরের জন্য ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। দ্বিতীয় মিনিটেই ফ্লোহিয়ান ভিয়েৎসের নিখুঁত পাস থেকে বাঁ পায়ের শটে জার্মানিকে এগিয়ে নেন লিহয় জানে। তবে এই গোলের বিল্ডআপের সময় একুয়েডরের পেদ্রোকে জার্মানির আলেকসান্দার পাভলোভিচ ফাউল করেছিলেন দাবি করে প্রতিবাদ জানায় একুয়েডর। মার্কিন নারী রেফারি টরি পেনসো ভিএআরের সাহায্যে গোলটি বহাল রাখেন।
পিছিয়ে পড়ে দমে যায়নি একুয়েডর। ম্যাচের ৯ম মিনিটেই বক্সের বাইরে থেকে বুলেট গতির শটে দলকে সমতায় ফেরান নিলসন অ্যাঙ্গুলো। এটি চলতি বিশ্বকাপে একুয়েডরের প্রথম গোল। ১-১ সমতায় শেষ হয় প্রথমার্ধ।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে কাই হাভার্টজ বক্সে ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টির বাঁশি বাজিয়েছিলেন রেফারি। তবে ভিএআর মনিটরে রিপ্লে দেখে সিদ্ধান্ত পাল্টান তিনি। দেখা যায়, বিল্ডআপের সময় উল্টো পেদ্রোকে ফাউল করেছিলেন জার্মান ফরোয়ার্ড জানে।
৬২তম মিনিটে লিড নিতে পারত একুয়েডর। তবে জন ইয়েবোয়ার পাস থেকে এনার ভ্যালেন্সিয়ার ২০ গজ দূর থেকে নেওয়া জোরাল শট দারুণভাবে ঝাঁপিয়ে রক্ষা করেন জার্মানির অভিজ্ঞ গোলরক্ষক মানুয়েল নয়ার।
অবশেষে ৭৭তম মিনিটে আসে সেই কাঙ্ক্ষিত মাহেন্দ্রক্ষণ। একুয়েডরের কর্নার থেকে বক্সে হেড করেন কেভিন রদ্রিগেজ। আর নয়ারের একেবারে সামনে থেকে বুটের টোকায় বল জালে জড়িয়ে একুয়েডরকে উল্লাসে ভাসান প্লাটা। ম্যাচের বাকি সময়ে আর কোনো গোল না হওয়ায় ২-১ ব্যবধানের অবিশ্বাস্য জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে একুয়েডর।
টানা ১৯ ম্যাচ অপরাজিত থেকে এবং দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের বাছাই পর্বে দ্বিতীয় হয়ে বিশ্বকাপ শুরু করেছিল একুয়েডর। তবে মূল আসরের শুরুটা ভালো ছিল না। প্রথম ম্যাচে আইভরি কোস্টের কাছে ৯০ মিনিটের গোলে হার এবং পরের ম্যাচে কুরাসাওয়ের সাথে গোলশূন্য ড্রয়ে বিদায়ের দুয়ারে পৌঁছে গিয়েছিল তারা। তবে শেষ ম্যাচে জায়ান্ট জার্মানিকে হারিয়ে রূপকথার মতো ঘুরে দাঁড়িয়ে বিশ্বকাপের পরের রাউন্ডে জায়গা করে নিল লাতিন আমেরিকার এই প্রতিনিধিরা।
মন্তব্য করুন