
দীর্ঘ প্রায় ২৫ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে মোংলা নদীতে শুরু হয়েছে ২৪ ঘণ্টার ফেরি চলাচল। ফলে জোয়ার-ভাটার সময়ের ওপর নির্ভর করে ফেরি পারাপারের যে দুর্ভোগে বছরের পর বছর ভুগতে হয়েছে হাজারো মানুষকে, তার অবসান হলো।
শুক্রবার বিকেল ৪টা থেকে সড়ক ও জনপথ বিভাগের তত্ত্বাবধানে সার্বক্ষণিক ফেরি চলাচল শুরু হয়।
ফেরি মাস্টার মো. সোহরাব হোসেন জানান, নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিত করতে দুটি ফেরির ব্যবস্থা করা হয়েছে। বর্তমানে একটি ফেরি নিয়মিত চলাচল করছে এবং অন্যটি স্ট্যান্ডবাই রাখা হয়েছে। চলমান ফেরিতে কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে অথবা যাত্রী ও যানবাহনের চাপ বেড়ে গেলে দ্বিতীয় ফেরিটি চালু করা হবে।
তিনি আরও জানান, ২০০১ সালের অক্টোবরে মোংলা নদীতে ফেরি সার্ভিস চালু হলেও মোংলা-ঘাষিয়াখালী চ্যানেলের প্রবেশমুখে নাব্যতা সংকটের কারণে এতদিন ফেরি চলাচল জোয়ার-ভাটার ওপর নির্ভরশীল ছিল। ফলে যাত্রী ও যানবাহনকে প্রায়ই দীর্ঘ সময় ফেরিঘাটে অপেক্ষা করতে হতো।
মোংলা নদীর এই ফেরিঘাট শহরের দুই অংশের মধ্যে প্রধান সংযোগস্থল। নদীর উত্তর পারে রয়েছে বাসস্ট্যান্ড ও বাণিজ্যিক এলাকা, আর দক্ষিণ পারে পুরোনো মোংলা শহর, সমুদ্রবন্দর, মোংলা ইপিজেড এবং সুন্দরবনের প্রবেশপথ। প্রতিদিন হাজারো মানুষ এই নৌপথ ব্যবহার করেন।
শুক্রবার সকালে ফেরি চলাচল কার্যক্রম এবং ঠাকুরানী খাল পরিদর্শন শেষে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী লায়ন ডা. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি লাঘব করতে সার্বক্ষণিক ফেরি চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ জন্য দ্বিতীয় একটি ফেরি সংযোজন করা হয়েছে। পাশাপাশি মোংলা-ঘাষিয়াখালী চ্যানেলের নাব্যতা বজায় রাখতে নিয়মিত খননকাজ পরিচালনা করা হবে। এছাড়া শহরের ঠাকুরানী খাল পুনরুদ্ধারের কাজও শুরু হয়েছে বলে তিনি জানান।
মোংলা ইপিজেডের শ্রমিক রহিম মিয়া বলেন, “আগে জোয়ার-ভাটার সময় মিলিয়ে ঘর থেকে বের হতে হতো। এখন সময়মতো কর্মস্থলে পৌঁছাতে পারব বলে আশা করছি।”
স্থানীয় ব্যবসায়ী কামরুল ইসলাম বলেন, “২৪ ঘণ্টা ফেরি চলাচল চালু হওয়ায় পণ্য পরিবহন সহজ হবে। এতে বন্দরকেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্য আরও গতিশীল হবে।”
অ্যাম্বুলেন্স চালক আলাউদ্দিন বলেন, “রোগী নিয়ে ফেরিঘাটে আটকে পড়ার ঘটনা প্রায়ই ঘটত। এখন যে কোনো সময় ফেরি পাওয়া গেলে রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হবে।”
মন্তব্য করুন