
ছয় দিনের মালয়েশিয়া ও চীন সফর শেষ করে দেশে ফিরছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান। শুক্রবার স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় (বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা) বেইজিং দাসিং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইন্সের একটি বাণিজ্যিক ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন তারা। রাত ৮টার দিকে তাদের হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
বেইজিং সফরের সমাপ্তিতে প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান চীনের প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত ইউ শিয়াওয়ং। এর আগে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন তিয়াওইউথাই থেকে সফরসঙ্গীদের নিয়ে বিমানবন্দরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী।
সফরের শেষ দিনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের প্রায় ৫০ মিনিটের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পরে দুই নেতার মধ্যে একান্ত বৈঠকও হয়। বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) জাদুঘর পরিদর্শন করেন।
এদিন সকালে তিনি তিয়েনআনমেন স্কয়ারে ‘মনুমেন্ট টু দ্য পিপলস হিরোজ’-এ পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে চীনের বিপ্লবী বীরদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। পরে ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ঝাও লে-চির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
সোমবার প্রধানমন্ত্রী চীনের দালিয়ান শহরে অনুষ্ঠিত বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সম্মেলনে অংশ নেন। পরে বুধবার বেইজিংয়ে পৌঁছে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফর শুরু করেন।
বৃহস্পতিবার গ্রেট হল অব দ্য পিপলে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দুই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বিনিয়োগ, গণমাধ্যম সহযোগিতাসহ ১৩টি বিষয়ে সমঝোতা স্মারক সই হয়। একই দিনে বিএনপি ও চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতা বৃদ্ধিতে আরও একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়। সব মিলিয়ে এ সফরে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ১৭টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।
বেইজিং সফরকে দুই দেশের সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও উন্নয়ন সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচনে এ সফর ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন