
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে বেইজিংয়ে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) ইতিহাস ও ঐতিহ্যবাহী জাদুঘর পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরের অংশ হিসেবে তিনি জাদুঘরের বিভিন্ন গ্যালারি ঘুরে দেখেন এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ইমার্সিভ অডিও-ভিজ্যুয়াল কোস্টার শো উপভোগ করেন।
স্থানীয় সময় শুক্রবার সকালে বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং সফরসঙ্গীদের নিয়ে সিপিসি জাদুঘরে পৌঁছান। সেখানে জাদুঘরের কিউরেটর তাঁকে স্বাগত জানান এবং পুরো জাদুঘর ঘুরিয়ে দেখান।
জাদুঘরের বিভিন্ন প্রদর্শনী ঘুরে দেখার পাশাপাশি চীনা কমিউনিস্ট পার্টির ইতিহাস, রাজনৈতিক বিকাশ এবং রাষ্ট্রীয় অগ্রযাত্রার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় সম্পর্কে অবহিত হন প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীরা।
পরিদর্শন শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাদুঘরের ভিজিটরস বুক বা পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন। পরে স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে তিনি দিয়াওইউতাই স্টেট গেস্টহাউসের উদ্দেশে জাদুঘর ত্যাগ করেন। বিদায়ের সময় জাদুঘরের কিউরেটর তাঁকে শুভেচ্ছা জানান।
এর আগে স্থানীয় সময় সকাল সোয়া ৯টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সফরসঙ্গীদের নিয়ে তিয়েনআনমেন স্কয়ারে চীনের বীরদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
পরে বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে তিনি চীনের ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ঝাউ লেজির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
সৌজন্য সাক্ষাতের পর একই স্থানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
দেশটির প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের আমন্ত্রণে চারদিনের সরকারি সফরে চীন গেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গত ২১ জুন মালয়েশিয়া সফরের মধ্য দিয়ে তাঁর প্রথম সরকারি বিদেশ সফর শুরু হয়। পরে তিনি ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) সামার দাভোস ২০২৬-এ অংশ নিতে চীনের দালিয়ান শহরে যান। সেখানে দু’দিন বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের পর বুধবার বিকেলে বেইজিং পৌঁছান।
বৃহস্পতিবার বেইজিংয়ের গ্রেট হলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে লালগালিচা সংবর্ধনাসহ উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং। পরে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে দুই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদারে ১৩টি সমঝোতা স্মারক আনুষ্ঠানিকভাবে সই হয়।
সুত্র: বাসস
মন্তব্য করুন