
সুন্দরবনে বনবিভাগের অভিযানেও থামছে না বিশ দিয়ে মাছ শিকার। নিষিদ্ধ সময়ে দুস্কৃতকারী চক্র বনবিভাগের চোখ ফাঁকি দিয়ে সুন্দরবনের নদী-খালে বিষ দিয়ে মাছ শিকার অব্যহত রেখেছে।
সুন্দরবনের নদী-খালে বিশ দিয়ে মাছ শিকার ঠেকাতে কাশিয়াবাদ ও কোবাদক ফরেস্ট স্টেশনের কর্মকর্তারা অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ সময়ে বিশ দিয়ে মাছ শিকারের দায়ে ৬ জেলে আটক করেছে। এসময় তাদের নিকট হতে কীটনাশক,নৌকা,মাছ, নিষিদ্ধ ভেশাল জালসহ মাছ ধরার সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। আটক জেলেদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে।
জনবল সংকটের কারনে নিষিদ্ধ সময়ে সুন্দরবনের অভয়ারণ্য (সংরক্ষিত) এলাকার খালে বিষ দিয়ে মাছ শিকার ঠেকাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে বনবিভাগের। দির্ঘদিন বনবিভাগের জনবল সংকট রয়েছে এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে দুস্কৃতকারী চক্র বন বিভাগের চোখ ফাঁকিদিয়ে সুন্দরবনের সংরক্ষিত এলাকায় প্রবেশ করছে নৌকা ও ট্রলার নিয়ে।
জানা গেছে, ১৩ জুন কোবাদক স্টেশন কর্মকর্তা শেখ আনিসুর রহমানের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে সুন্দরবনের বাইনতলা খাল নামক স্থানে অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ সময়ে বিশ দিয়ে মাছ শিকারের অপরাধে উপজেলা গোলখালী গ্রামের তরিকুল সরদার, শরিফুল ইসলাম, ওসমান সরদার ও শ্যামনগর উপজেলার ভেটখালী গ্রামের আব্দুর রহমান নামে ৪ জনকে আটক করে।
এ সময় তাদের নিকট হতে ২ টি নৌকা, মাছ শিকারের জালসহ অন্যান্য সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। ২০ জুন কাশিয়াবাদ ফরেস্ট স্টেশন কর্মকর্তা মোহাঃ নাসির উদ্দীনের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে মাদারবাড়ি খাল এলাকায় বিষ প্রয়োগ করে মাছ ধরার অপরাধ উপজেলার জোড়শিং গ্রামের আল মামুন ও মাসুম বিল্লাহ নামে ২ জেলে আটক করে।
এ সময় ২ টি নৌকা, ৪ বোতল ভারতীয় অবৈধ কীটনাশক, ৬৫ কেজি চিংড়ি মাছ এবং নিষিদ্ধ ভেশাল জালসহ মাছ ধরার সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাছ মামলা হলেও থেমে নেই বিষ দিয়ে মাছ শিকার।
বনবিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ১ জুন থেকে ৩১ আগষ্ট পর্যন্ত তিন মাস সুন্দরবনের নদীতে মাছের প্রজনন মৌসুম চলে। এই তিন মাস সুন্দরবনে সব ধরনের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। এছাড়া অভয়ারণ্য এলাকাগুলিতে সারা বছর জেলে-বাওয়ালীদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকে। সুন্দরবনের খুলনা ও সাতক্ষীরা রেঞ্জের আওতায় এক লাখ ১৯ হাজার ৭১৮ হেক্টর এলাকা অভারণ্য হিসেবে চিহ্নিত রয়েছে।
কাশিয়াবাদ ফরেস্ট স্টেশন কর্মকর্তা মোহাঃ নাসির উদ্দিন বলেন, প্রজনন মৌসুম তিন মাস সুন্দরবনে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। বনবিভাগের নিয়মিত টহল অব্যহত রয়েছে। যার ধারাবাহিকতায় নিষিদ্ধ সময়ে সুন্দরবনে মাছ শিকারের দায়ে জেলেদের আটক করা সম্ভব হয়েছে।
সুন্দরবন পশ্চিম বনবিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা এজেডএম হাছানুর রহমান বলেন, নিষিদ্ধ সময়ে কেউ যাতে সুন্দরবনে প্রবেশ করতে না পারে সে জন্য বনবিভাগের টহল জোরদার করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন