
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে ৫ বছর বয়সী শিশু তাবাসসুম আক্তার তোয়া ধর্ষণ ও হত্যার চাঞ্চল্যকর মামলায় আসামি আবু তাহেরকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫ লাখ ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং লাশ গুমের অপরাধে ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সোমবার বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে ঝিনাইদহ জেলা ও দায়রা জজ ও শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সালেহুজ্জামান এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বলা হয়, জরিমানার টাকা আসামির সম্পত্তি বিক্রি করে আদায় করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি কালীগঞ্জ উপজেলার বাদেডিহী গ্রামে আবু তাহের প্রতিবেশী নজরুল ইসলামের ৫ বছরের শিশুকে চকলেট দেওয়ার প্রলোভনে নিজ ঘরে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ ও শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরে মরদেহ বস্তায় ভরে পার্শ্ববর্তী আবুল জব্বার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সেপটিক ট্যাংকে ফেলে দেয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
পরিবার শিশুটিকে না পেয়ে ওই দিন সন্ধ্যায় থানায় জানায়। পরে পুলিশ তদন্তে নেমে পরদিন মরদেহ উদ্ধার করে এবং নিহতের পিতা নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্তের একদিনের মধ্যেই কুষ্টিয়া শহর থেকে আবু তাহেরকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
মামলাটি নথিভুক্ত হওয়ার পর মাত্র ১১৬ দিনের মধ্যে এবং ৫ কার্যদিবসে ১৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে রায় ঘোষণা করা হয়, যা ঝিনাইদহ আদালতে একটি নজির হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আবু তাহের কালীগঞ্জ উপজেলার ফারাসপুর গ্রামের শফি উদ্দীনের ছেলে। মামলাটি পরিচালনা করেন রাষ্ট্রপক্ষের পিপি আকিদুল ইসলাম এবং আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন আশরাফুল ইসলাম।
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে শিশুটির স্বজনরা দ্রুত দণ্ড কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করার কথা জানিয়েছে।
মন্তব্য করুন