
যশোরের কেশবপুর উপজেলার সাগরদাঁড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণার পর থেকে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘদিন ধরে নিজস্ব বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ থাকায় বর্তমানে যশোর জেলা পরিষদ নিয়ন্ত্রিত সাগরদাঁড়ি মধুমঞ্চ অডিটোরিয়ামে ক্লাস চলছে। এতে শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে অভিযোগ অভিভাবক ও স্থানীয়দের।
মধুপল্লীর ভেতরে অবস্থিত বিদ্যালয়টির একতলা তিন কক্ষবিশিষ্ট ভবনের দেয়াল ও ছাদে ফাটল দেখা দেওয়ায় উপজেলা শিক্ষা অফিস ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে ভবনটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে। এরপর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের নিয়ে প্রথমে সাগরদাঁড়ি আবু শারাফ সাদেক পলিটেকনিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের দুটি কক্ষে পাঠদান শুরু করেন। সেখানে পর্দা দিয়ে তিনটি শ্রেণিকক্ষের ব্যবস্থা করা হলেও শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন ব্যস্ততম সড়ক ও দুর্ঘটনাপ্রবণ মোড় পার হয়ে যাতায়াত করতে হতো, যা অভিভাবকদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
অভিভাবকদের ভাষ্য, পরে কলেজ কর্তৃপক্ষ কোমলমতি শিশুদের দৌড়ঝাঁপ ও কোলাহলের কারণে সেখানে ক্লাস পরিচালনায় অনাগ্রহ প্রকাশ করলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে বিকল্প ব্যবস্থা নিতে হয়।
বর্তমানে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে এ বছরের শুরু থেকে সাগরদাঁড়ি মধুমঞ্চ অডিটোরিয়ামের নিচতলায় অফিসসহ একটি কক্ষ এবং দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষে পাঠদান চলছে। তবে সীমিত জায়গা ও প্রয়োজনীয় শ্রেণিকক্ষের অভাবে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না।
শিক্ষার্থীরা জানায়, বারবার এক স্থান থেকে অন্য স্থানে গিয়ে ক্লাস করতে তাদের ভালো লাগে না। নিজস্ব বিদ্যালয় ও খেলার মাঠ না থাকায় তারা স্বাভাবিকভাবে লেখাপড়া ও খেলাধুলা করতে পারছে না।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মেহেরুনেছা বলেন, ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণার পর থেকে বিভিন্ন স্থানে পাঠদান চালিয়ে যেতে হচ্ছে। বর্তমানে ২৭০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে মধুমঞ্চে ক্লাস পরিচালনা করতে নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। বিদ্যালয়ের পাশে টিনশেড নির্মাণ করে অস্থায়ীভাবে ক্লাস নেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও মধুপল্লী কর্তৃপক্ষ নতুন কোনো স্থাপনা নির্মাণের অনুমতি না দেওয়ায় তা সম্ভব হয়নি।
সাগরদাঁড়ির বাসিন্দা মুফতি তাহেরুজ্জামান তাছু বলেন, বারবার শ্রেণিকক্ষ পরিবর্তনের কারণে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় অমনোযোগী হয়ে পড়ছে। এতে তাদের লেখাপড়ার পাশাপাশি মানসিক বিকাশও ব্যাহত হচ্ছে।
সাগরদাঁড়ি মধুপল্লীর কাস্টডিয়ান হাসানুজ্জামান বলেন, মধুপল্লীর ভেতরে নতুন কোনো প্রতিষ্ঠানের স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ নেই। এ কারণেই বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সেখানে অস্থায়ী টিনশেডও নির্মাণ করতে পারেনি।
উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার দুলাল চন্দ্র সরকার বলেন, বিদ্যালয়টির বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অবগত রয়েছেন। মধুপল্লীর ভেতরে অবস্থানের কারণে ভবন সংস্কার বা নতুন ভবন নির্মাণ সম্ভব হচ্ছে না। বিকল্প স্থানে নতুন ভবন নির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত অন্যত্র পাঠদান চালিয়ে যাওয়া ছাড়া আপাতত কোনো বিকল্প নেই।
মন্তব্য করুন