
যশোরের অভয়নগর উপজেলায় ডেঙ্গুর প্রকোপ আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন জ্বর ও ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে রোগীরা অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাতের কারণে বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং মশকনিধন কার্যক্রমে ঘাটতির ফলে এডিস মশার বিস্তার বেড়েছে। বিশেষ করে নওয়াপাড়া পৌর এলাকা, প্রেমবাগ, সিদ্ধিপাশা, শ্রীধরপুর, চলিশিয়া, সুন্দলী এবং আশপাশের কয়েকটি গ্রামে ডেঙ্গু নিয়ে মানুষের উদ্বেগ বেশি দেখা যাচ্ছে।
অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আলিমুর রাজীব বলেন, জ্বর, মাথাব্যথা, শরীরব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা কিংবা রক্তক্ষরণের মতো উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। একই সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যথানাশক ওষুধ সেবন না করারও পরামর্শ দেন তিনি।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নওয়াপাড়া পৌরসভার মশকনিধন কার্যক্রম কার্যত বন্ধ রয়েছে। তারা মশকনিধন কার্যক্রম জোরদার করা, ড্রেন ও জলাবদ্ধ স্থান পরিষ্কার রাখা এবং নিয়মিত জনসচেতনতামূলক প্রচারণা চালানোর দাবি জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে নিজ নিজ বাসাবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। কোথাও তিন দিনের বেশি পানি জমে থাকতে দেওয়া যাবে না এবং জ্বর দেখা দিলে দ্রুত ডেঙ্গু পরীক্ষা করাতে হবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে ডেঙ্গুর বিস্তার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, আজ পর্যন্ত উপজেলায় ১৫৩ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন। এর মধ্যে বর্তমানে ১২ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পর্যাপ্ত পরিমাণ ওষুধের সংকট থাকায় অনেক অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষ প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পেতে সমস্যার মুখে পড়ছেন।
মন্তব্য করুন