
বিশ্বকাপ চলাকালেই একের পর এক বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগের মধ্যেই এবার তার বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি তুলেছেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের একাধিক আইনপ্রণেতা।
এর আগে আর্জেন্টিনাকে বাড়তি সুবিধা দেওয়া এবং আর্জেন্টিনা গোল হজম করলে ইনফান্তিনোর প্রতিক্রিয়া নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা হয়। সেই বিতর্কের মধ্যেই নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগানের লাল কার্ডের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারকে ঘিরে।
ইএসপিএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বসনিয়া-হার্জেগোভিনার বিপক্ষে ম্যাচে লাল কার্ড দেখায় বেলজিয়ামের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে বালোগানের খেলার সুযোগ ছিল না। তবে পরে ফিফা তার নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেয়।
এ ঘটনায় অভিযোগ উঠেছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সরাসরি ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে যোগাযোগ করার পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ব্যারি অ্যান্ড্রুজ, লারা ভোল্টার্স এবং নিলস ফুগলসাং এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, বিশ্বকাপ চলাকালে নিয়ম পরিবর্তন ফুটবলের ন্যায্যতার পরিপন্থী এবং এটি বিচারিক প্রক্রিয়ার বিকৃতি। রাজনৈতিক চাপের কারণে ফিফা সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।
এ পর্যন্ত অন্তত ৩৫ জন ইউরোপীয় আইনপ্রণেতা তদন্তের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা ইউরোপের বিভিন্ন দেশের ফুটবল ফেডারেশনকে আহ্বান জানিয়েছেন, বিষয়টি তদন্তের জন্য ফিফার এথিকস কমিটির কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন জানাতে।
তবে ফিফার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, বালোগানের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তটি সম্পূর্ণভাবে তাদের শৃঙ্খলা কমিটির নেওয়া।
অবশ্য বালোগানের নিষেধাজ্ঞা বাতিল হলেও শেষ পর্যন্ত কোনো লাভ হয়নি যুক্তরাষ্ট্রের। বেলজিয়ামের কাছে ৪-১ গোলে হেরে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নিয়েছে সহ-আয়োজক দলটি।
মন্তব্য করুন