
গাইবান্ধা পৌর শহরে অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও প্রয়োজনীয় ড্রেনের অভাবে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। বুধবার (৯ জুলাই) সকালে কয়েক ঘণ্টার ভারী বৃষ্টির পর শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও আবাসিক এলাকায় পানি জমে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছায়।
সরেজমিনে দেখা যায়, খাঁপাড়ায় অবস্থিত গাইবান্ধা মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র (মাতৃসদন) সড়ক, কাঁচারী বাজারের চুড়িপট্টি, সঁচীন চাকী সড়ক, মধ্যপাড়া স্কুল রোড এবং ভিএইডি রোডে কে.এন. সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের সড়কসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।
অনেক বাড়ির আঙিনা ও ঘরের ভেতরেও পানি ঢুকে পড়েছে। কোথাও কোথাও হাঁটুপানি জমে থাকায় সাধারণ মানুষ ও যানবাহন চালকদের চলাচলে চরম ভোগান্তি দেখা দিয়েছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা।
গাইবান্ধা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, সকাল থেকে কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতেই বিদ্যালয়ের সামনের সড়ক হাঁটুপানি হয়ে যায়। নোংরা পানি মাড়িয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে, ফলে ত্বকে চুলকানিসহ নানা ধরনের সমস্যারও মুখোমুখি হচ্ছেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সামান্য বৃষ্টিতেই শহরের রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যায়। দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যা চললেও স্থায়ী সমাধানে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে একই ধরনের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
এদিকে সচেতন নাগরিকরা জলাবদ্ধতার জন্য পৌর কর্তৃপক্ষের উদাসীনতাকে দায়ী করেছেন। তাদের দাবি, প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হওয়া সত্ত্বেও প্রতিবছর শত কোটি টাকার বাজেট থাকলেও পানি নিষ্কাশনের জন্য প্রয়োজনীয় ড্রেন নির্মাণ ও বিদ্যমান ড্রেনগুলোর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণে পর্যাপ্ত গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। অনেক স্থানে ড্রেন থাকলেও তা অপরিষ্কার ও অকার্যকর হয়ে পড়ায় বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন হতে পারছে না। ফলে অল্প বৃষ্টিতেই শহরের সড়ক ও আবাসিক এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।
এ অবস্থায় জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন পৌরবাসী।
মন্তব্য করুন