
মাঠের ফুটবল গড়ানোর আগেই মাঠের বাইরের এক অনাকাঙ্ক্ষিত ও রহস্যময় ঘটনায় স্থবির হয়ে পড়েছে ইরান জাতীয় ফুটবল দলের বিশ্বকাপ প্রস্তুতি। মেক্সিকোর তিজুয়ানায় ইরানি প্রতিনিধি দলের হোটেলের ঠিক বাইরে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় ব্যাপক পুলিশি তৎপরতা শুরু হয়েছে।
এই ঘটনার পর তড়িঘড়ি করে নিজেদের ক্যাম্প ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন ইরানি ফুটবলাররা। বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচের ঠিক আগমুহূর্তে এই ঘটনা দলটির নিয়মিত সূচিতে বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে এনেছে।
স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো জানায়, ইরান দলের হোটেলের উল্টো দিকের ফুটপাতে পার্ক করে রাখা মার্কিন লাইসেন্স প্লেটধারী একটি পিকআপ ভ্যান থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াতে থাকে। বিষয়টি টের পেয়ে নিরাপত্তা বাহিনী সেখানে তল্লাশি চালালে গাড়ির ভেতর থেকে গলিত একটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, লাশটিতে স্পষ্ট ‘সহিংসতার ছাপ’ বা আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং পুরো এলাকা জুড়ে অপরাধ তদন্ত শুরু করেছে স্থানীয় পুলিশ।
এই ঘটনার পর নিরাপত্তার স্বার্থে খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের তাৎক্ষণিকভাবে ওই হোটেল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। অভিষেকের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে এমন ঘটনা ইরান দলের পূর্বপরিকল্পিত শিডিউলে পরিবর্তন আনতে বাধ্য করলেও, তাদের মূল অনুশীলনে বড় কোনো ঘাটতি তৈরি হয়নি বলে জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, এবারের বিশ্বকাপে রাজনৈতিক কারণে এমনিতেই এক ভিন্ন পরিস্থিতির মুখোমুখি ইরান। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চলমান তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে উত্তর আমেরিকার (ইউএসএ) মূল ভেন্যুগুলোতে ঘাঁটি না বানিয়ে, তারা মেক্সিকোতে নিজেদের বেস ক্যাম্প করার সিদ্ধান্ত নেয়।
তবে মেক্সিকোতে ক্যাম্প করার কারণে গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলোর জন্য ইরানকে বড় ধরনের লজিস্টিক অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে। প্রতিটি ম্যাচের আগে খেলোয়াড়দের বিমানে চড়ে ভেন্যুতে যেতে হবে এবং ম্যাচ শেষেই আবার মেক্সিকোতে ফিরে আসতে হবে। অন্য দলগুলোর তুলনায় এই বাড়তি ভ্রমণ ইরানকে বেশ ক্লান্তিকর পরিস্থিতিতে ফেলবে।
অফিসিয়াল সূচি অনুযায়ী, এবারের বিশ্বকাপে ‘জি’ গ্রুপে খেলছে ইরান। যেখানে তাদের সঙ্গী নিউজিল্যান্ড, বেলজিয়াম এবং মিশর। আগামী সোমবার, ১৫ জুন (আর্জেন্টিনা সময় রাত ১০টায়) মাঠে নামার মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চের এই শীর্ষ টুর্নামেন্টে নিজেদের যাত্রা শুরু করবে এশিয়ার এই পরাশক্তি।
মন্তব্য করুন