
ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্ক এবং সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে অতীতে একাধিক বিতর্কিত মন্তব্য করা পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা সুবেন্দু অধিকারী এবার ভিন্ন অবস্থান নিলেন। তিনি বাংলাদেশ সংক্রান্ত যেকোনো প্রশ্নে সরাসরি মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকেন এবং বিষয়টি ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর ছেড়ে দেন।
শুক্রবার কলকাতার উপকণ্ঠ নিউটাউনে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন। সেখানে বাংলাদেশ প্রসঙ্গে প্রশ্ন উঠলে তিনি জানান, এ বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করবেন না।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ বা সীমান্ত সংক্রান্ত কোনো বিষয় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া বা মন্তব্য করার দায়িত্ব ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের। একক কোনো রাজনীতিবিদের এ বিষয়ে মন্তব্য করা উচিত নয় বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।
ভারত থেকে বাংলাদেশ সীমান্তে মানুষ ঠেলে পাঠানোর অভিযোগ—যা ‘পুশইন’ নামে পরিচিত—এই ইস্যুতেও তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
তার ভাষায়, “এ বিষয়ে আমি কোনো উত্তর দেব না। যদি কোনো আলোচনা হয়, তা ভারতের পররাষ্ট্র নীতির আওতায় আসবে।”
তিনি আরও বলেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্ত শুধু পশ্চিমবঙ্গেই সীমাবদ্ধ নয়; আরও কয়েকটি রাজ্যের সঙ্গেও রয়েছে। তাই এই ধরনের বিষয় দেখভালের দায়িত্ব কেন্দ্রীয় সরকারের।
সীমান্তে অবকাঠামো উন্নয়ন এবং জমি হস্তান্তর নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদারে কাজ চলছে।
এ প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, ইতোমধ্যে প্রায় ১০০ কিলোমিটার জমি সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে হস্তান্তর করা হয়েছে। পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের ‘চিকেন নেক’ এলাকার মতো গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের কাজ চলছে।
তিনি দাবি করেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই এই প্রকল্প শেষ করা হবে, কারণ এটি জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।
বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ ইস্যুতে সরাসরি মন্তব্য এড়িয়ে গিয়ে সুবেন্দু অধিকারী কার্যত বিষয়টিকে কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর চাপিয়ে দিয়েছেন। এতে করে আন্তর্জাতিক ও সীমান্ত সংক্রান্ত বিতর্কে রাজ্য রাজনীতির ভূমিকা কমিয়ে আনার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
বাংলাদেশ ও সীমান্ত ইস্যুতে কঠোর অবস্থান থেকে সরে এসে এবার সতর্ক কূটনৈতিক অবস্থান নিলেন সুবেন্দু অধিকারী। তিনি সব গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের দায় কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন এবং সীমান্ত নিরাপত্তাকে জাতীয় নিরাপত্তার অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
মন্তব্য করুন