
বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচেই নিজেদের শক্তিমত্তার প্রমাণ দিল স্বাগতিক মেক্সিকো। ‘এ’ গ্রুপের গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২-০ গোলে পরাজিত করে টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত সূচনা করেছে মেক্সিকানরা। ঘরের মাঠে হাজারো সমর্থকের উচ্ছ্বাসের মধ্যে জয় তুলে নিয়ে গ্রুপ পর্বে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করেছে দলটি।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে মেক্সিকো। এর ফলও পেয়ে যায় খুব দ্রুত। ম্যাচের নবম মিনিটে এরিক লিরার নিখুঁত পাস থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন জুলিয়ান কুইনোনেস।
বিশ্বকাপের এই আসরের উদ্বোধনী ম্যাচের প্রথম গোলটি করে ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম লিখিয়ে ফেলেন এই ফরোয়ার্ড। গোলের পর পুরো স্টেডিয়াম আনন্দে ফেটে পড়ে এবং ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় স্বাগতিকরা।
প্রথমার্ধে এক গোল পিছিয়ে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে যায় দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই। ৪৯তম মিনিটে স্ফেফেলো সিতোলে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন।
এর ফলে দশজনের দলে পরিণত হওয়া আফ্রিকান প্রতিনিধিদের জন্য ম্যাচে ফেরাটা প্রায় অসম্ভব হয়ে ওঠে। বাকি সময়ে তারা মূলত রক্ষণ সামলাতেই ব্যস্ত ছিল।
সংখ্যাগত সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে ম্যাচের ৬৭তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে মেক্সিকো। রোবার্তো আলভারাদোর দুর্দান্ত ক্রস থেকে শক্তিশালী হেডে বল জালে জড়ান অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার রাউল জিমেনেস। অভিজ্ঞ এই স্ট্রাইকারের গোলে ম্যাচের ভাগ্য সেখানেই মোটামুটি নির্ধারিত হয়ে যায়। ৯০+২ মিনিটে সেজার মন্তেসের লাল কার্ড মেক্সিকোর জন্য কিছুটা মেঘ আনলেও ততক্ষণে ফলাফল অপরিবর্তনীয়।
সংখ্যার নিরিখে দুই দলের মধ্যে পার্থক্য রীতিমতো চমকে দেওয়ার মতো। বল দখলে মেক্সিকো ৬২ শতাংশ বনাম দক্ষিণ আফ্রিকার মাত্র ৩৮ শতাংশ। মোট শট নেওয়ার তুলনাটি আরও একপেশে—মেক্সিকো ১৬ শট নিয়েছে, বিপরীতে দক্ষিণ আফ্রিকার ৩টি। প্রতিপক্ষের বক্সে বল স্পর্শের পার্থক্যও চোখ কপালে তোলার মতো, মেক্সিকো ২০ বার, দক্ষিণ আফ্রিকা মাত্র ২ বার। আর প্রত্যাশিত গোলের হিসাবে মেক্সিকোর ১.৪৪-এর বিপরীতে দক্ষিণ আফ্রিকার ছিল নগণ্য ০.০৭—যা বলে দেয়, আফ্রিকান দলটি কার্যত আক্রমণেই যেতে পারেনি।
৮৩ হাজার ধারণক্ষমতার স্টেডিয়ামের প্রায় ৯৭ শতাংশ আসন পূর্ণ ছিল দর্শকে। তাদের সমর্থনেই শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত উজ্জীবিত ফুটবল খেলেছে মেক্সিকো।
এই জয়ের মাধ্যমে ‘এ’ গ্রুপে প্রাথমিকভাবে চালকের আসনে বসেছে স্বাগতিকরা। বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে নিজেদের সমর্থকদের সামনে এমন জয় নিঃসন্দেহে স্বপ্নের সূচনা।
উল্লেখ্য, ২০১০ সালের বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচেও মুখোমুখি হয়েছিল মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকা। সেবার ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হলেও এবার জয়ের হাসি নিয়ে মাঠ ছেড়েছে মেক্সিকানরাই।
মন্তব্য করুন