
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের মাধ্যমে উত্তর আমেরিকার দেশ কানাডা ফুটবল ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। এবারই প্রথমবারের মতো তারা নিজ দেশের মাটিতে বিশ্বকাপের ম্যাচ আয়োজন ও খেলার সুযোগ পাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর সঙ্গে যৌথভাবে আয়োজিত এই বিশ্বকাপে স্বাগতিক হিসেবে কানাডার জন্য এটি এক অনন্য ও ঐতিহাসিক মুহূর্ত। এর আগে তারা ১৯৮৬ ও ২০২২ বিশ্বকাপে অংশ নিলেও কখনোই ঘরের মাঠে খেলার সুযোগ পায়নি।
এই আসরে কানাডার দুটি প্রধান শহর টরন্টো এবং ভ্যাঙ্কুভারে মোট ১৩টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এটি দেশটির ফুটবল ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিশ্বকাপের ‘বি’ গ্রুপে খেলছে কানাডা। তাদের প্রতিপক্ষ বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, কাতার এবং সুইজারল্যান্ড। স্বাগতিক দর্শকদের সমর্থন নিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা করে নেওয়ার স্বপ্ন দেখছে দলটি।
কানাডার বর্তমান দলকে দেশটির ইতিহাসের অন্যতম সেরা প্রজন্ম হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। দলে রয়েছেন তারকা ফুটবলার আলফনসো ডেভিস, জোনাথন ডেভিড ও কাইল লেরিন। তাদের নেতৃত্বে বিশ্বকাপে প্রথম জয়ের অপেক্ষাও ঘোচাতে চায় ‘লে রুজ’রা।
বিশ্বকাপে কানাডার অতীত অবশ্য সুখকর নয়। ১৯৮৬ ও ২০২২—দুই আসর মিলিয়ে ছয়টি ম্যাচ খেলেও কোনো জয় পায়নি তারা। এমনকি ড্রও করতে পারেনি। তবে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে গোল করে বিশ্বকাপে কানাডার প্রথম গোলের ইতিহাস গড়েছিলেন আলফনসো ডেভিস।
বিশ্বকাপে প্রথম জয়, প্রথমবার নকআউট পর্বে ওঠা এবং স্বাগতিক হিসেবে স্মরণীয় এক আসর উপহার দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামছে কানাডা। আর সেই পথচলায় তাদের ম্যাচ বসনিয়ার বিপক্ষে।
নিজ দেশে বিশ্বকাপ খেলার এই ঐতিহাসিক সুযোগ কানাডার ফুটবলের জন্য এক যুগান্তকারী মুহূর্ত। এখন দেখার বিষয়, আলফনসো ডেভিসদের নেতৃত্বে ‘লে রুজ’ কি পারবে ইতিহাস বদলে নতুন অধ্যায় রচনা করতে।
মন্তব্য করুন