
‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ খ্যাত ফুটবল বিশ্বকাপের ২৩তম আসরের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হলো বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে। মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে লাখো ফুটবলপ্রেমীর প্রত্যাশার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হওয়া উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সংগীত, নৃত্য এবং সংস্কৃতির এক অনন্য সমন্বয় দেখা যায়।
বিশ্বকাপ ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরু হয় জনপ্রিয় মেক্সিকান পপ ব্যান্ড ‘মানা’র পরিবেশনার মাধ্যমে। এরপর মঞ্চে আসেন ভেনেজুয়েলার খ্যাতনামা গায়ক ও গীতিকার ড্যানি ওশান। ঐতিহ্যবাহী মেক্সিকান পোশাকে সজ্জিত নৃত্যশিল্পীদের সঙ্গে তিনি পরিবেশন করেন জনপ্রিয় গান ‘পার্তিদাজো’, যা দর্শকদের উচ্ছ্বাসে ভাসিয়ে তোলে।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে মঞ্চ মাতান আন্তর্জাতিক তারকা জে বালভিন। বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় গান ‘আই লাইক ইট’-এর শিল্পী হিসেবে পরিচিত এই সংগীতশিল্পীর পরিবেশনা দর্শকদের বাড়তি আনন্দ দেয়। অনুষ্ঠানে নাইজেরীয় তারকা বার্না বয়ের উপস্থিতিও ছিল বিশেষ আকর্ষণ।
তবে পুরো অনুষ্ঠানের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত মুহূর্ত ছিল কলম্বিয়ান পপ সুপারস্টার শাকিরার আগমন। বিশ্বকাপের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক থাকা এই শিল্পী তার জনপ্রিয় গান ‘দাই দাই’ এবং বিশ্বকাপের অফিসিয়াল থিম সং ‘লেটস গো’ পরিবেশন করে দর্শকদের মুগ্ধ করেন। শাকিরার সঙ্গে গলা মিলিয়ে পুরো আজতেকা স্টেডিয়াম এক আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি করে।
শাকিরার পরিবেশনার মধ্য দিয়েই শেষ হয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা। এরপর শুরু হয় ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রতিযোগিতার অপেক্ষা। উদ্বোধনী ম্যাচে স্বাগতিক মেক্সিকোর মুখোমুখি হয় দক্ষিণ আফ্রিকা।
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ নানা কারণেই ইতিহাসের পাতায় বিশেষ স্থান করে নিতে যাচ্ছে। এবারই প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল অংশ নিচ্ছে বিশ্বকাপের মূল পর্বে। পাশাপাশি টুর্নামেন্টজুড়ে অনুষ্ঠিত হবে মোট ১০৪টি ম্যাচ, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
আরও একটি বড় মাইলফলক হলো, ইতিহাসে প্রথমবারের মতো তিনটি দেশ যৌথভাবে বিশ্বকাপ আয়োজন করছে। মেক্সিকো, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা একসঙ্গে এই আসরের আয়োজক হওয়ায় বিশ্ব ফুটবলে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে।
বিশ্বকাপের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন মেক্সিকোতে হলেও আয়োজক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডাতেও পৃথক উদ্বোধনী আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে। ফলে বিশ্বকাপ ২০২৬ শুধু একটি ফুটবল টুর্নামেন্ট নয়, বরং তিন দেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও ক্রীড়ার এক বৈশ্বিক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।
৪৮ দলের অংশগ্রহণ, ১০৪ ম্যাচের সূচি এবং তিন দেশের যৌথ আয়োজনে ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ও জাঁকজমকপূর্ণ বিশ্বকাপের যাত্রা শুরু হলো। এখন বিশ্বের কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর চোখ মাঠের লড়াইয়ে, যেখানে আগামী এক মাসেরও বেশি সময় ধরে নির্ধারিত হবে বিশ্বের নতুন ফুটবল চ্যাম্পিয়ন।
মন্তব্য করুন