
“মেধা- বিজ্ঞান- উদ্ভাবনের দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে গাইবান্ধায় স্টার্টআপ, বিজ্ঞান প্রকল্প এবং উদ্ভাবনী ধারণা প্রদর্শনী কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে।
শুক্রবার (১২ জুন) সকাল ১০টার দিকে সদর উপজেলা পর্যায়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের অংশগ্রহণে জেলা শহরের সদর উপজেলা মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শ্রেণিকক্ষে দিনব্যাপী এই প্রদর্শনী কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. লোকমান হোসেনের সভাপতিত্বে এডুকেশনাল এক্সিলেন্স সাপোর্ট স্কিম (EES) ও এসইডিপি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, ঢাকার আয়োজনে এবং সদর উপজেলা প্রশাসনের বাস্তবায়নে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ফিতা কেটে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন সদর-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল করিম সরকার।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহনাজ বেগম, উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার এএইচএম হুমায়ুন কবির, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোশারফ হোসেন বাবু, সদর উপজেলা মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ প্রমোদ রঞ্জন পাল, প্রভাষক শ্যামল চন্দ্র বর্মন, জাকির হোসেন, শহিদুল ইসলাম খোকনসহ অনেকে।
স্টার্টআপ, বিজ্ঞান প্রকল্প ও উদ্ভাবনী ধারণা প্রদর্শনীতে গাইবান্ধা সরকারি বালক ও বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, দাড়িয়াপুর আমানুল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয়, এসকেএস স্কুল অ্যান্ড কলেজসহ সদর উপজেলার ১৮টি স্কুল ও কলেজের মোট ৯০ জন শিক্ষক ও শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। উদ্বোধনের পর প্রধান অতিথি প্রদর্শনী স্টলগুলো ঘুরে দেখেন।
মোট ১৮টি স্টলে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ শনাক্তকরণ ও স্বয়ংক্রিয় বিচ্ছিন্নকরণ ব্যবস্থা, টেকসই আদর্শ গ্রাম, সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যালগরিদম পরিবর্তন, হাইড্রোলিক ব্রিজ, স্মার্ট ড্রেনেজ ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ ও পানি শোধন প্রকল্পসহ প্রায় দুই ডজনেরও বেশি উদ্ভাবনী ধারণা উপস্থাপন করা হয়।
পরে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তারা অংশগ্রহণকারীদের সাফল্য কামনা করেন এবং বলেন, এ ধরনের প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবনী উদ্যোগ দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, উদ্ভাবনী সক্ষমতা ও উদ্যোক্তা মনোভাব বিকাশই এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য বলেও উল্লেখ করা হয়।
বিচারকদের মূল্যায়নে প্রথম স্থান অর্জন করে গাইবান্ধা আহম্মেদ উদ্দিন শাহ শিশু নিকেতন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে গাইবান্ধা সরকারি কলেজ এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করে গাইবান্ধা সদর উপজেলা মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ।
পরে বিকেলে বিজয়ীদের মধ্যে সনদপত্র ও সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।
মন্তব্য করুন