
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে মন্তব্য করেছেন, যেখানে তিনি দেশটির সাধারণ জনগণের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেছেন এবং বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে দমনমূলক বলে উল্লেখ করেছেন।
তিনি দাবি করেন, ইরানের সাধারণ মানুষ কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও অস্ত্রধারী বাহিনীর ভয়ে সরকারের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে দাঁড়াতে পারে না। তার মতে, সেখানে প্রতিবাদ করলে সহিংস দমন-পীড়নের শিকার হতে হয়।
ট্রাম্প বলেন, ইরানের জনগণ ভয়ের মধ্যে জীবনযাপন করছে, কারণ তাদের হাতে অস্ত্র নেই, কিন্তু সরকারের নিরাপত্তা বাহিনী অত্যন্ত শক্তিশালী।
তিনি ইঙ্গিত দেন, দেশটির রাজনৈতিক কাঠামো জনগণকে স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করতে বাধা দেয়, যা দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিকভাবে বিতর্কের বিষয়।
১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর থেকে ইরান ইয়েমেন, ইরাক, লেবানন ও সিরিয়ায় বিভিন্ন মিত্র গোষ্ঠীকে সমর্থন দিয়ে আসছে। এই পদক্ষেপগুলোকে তারা মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ হিসেবে ব্যাখ্যা করে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরানও প্রতিবেশী অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় সামরিক লক্ষ্যবস্তুর পাশাপাশি কিছু বেসামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
ইরান অবশ্য বলছে, তারা উপসাগরীয় অঞ্চলে নিজেদের নিরাপত্তা ও প্রভাব রক্ষার জন্য এই পদক্ষেপ নিয়েছে।
ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে ইরানের সঙ্গে একটি নতুন চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। তার দাবি, আলোচনা শীর্ষ পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং কিছু ক্ষেত্রে অনুমোদনও পেয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সম্ভাব্য চুক্তির স্থান ইউরোপ হতে পারে এবং তা শিগগিরই ঘোষণা করা হবে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে দেন যে আলোচনা ব্যর্থ হলে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। ট্রাম্পের বক্তব্যের পর আন্তর্জাতিক বাজারে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। শেয়ারবাজারে উত্থান ঘটে এবং তেলের দাম কিছুটা কমে যায়।
বিশ্লেষকদের মতে, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা কমার সম্ভাবনার ইঙ্গিতেই এই পরিবর্তন দেখা গেছে।
ট্রাম্প বলেন, তিনি ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো—যেমন বিদ্যুৎ, পানি সরবরাহ বা সেতু—লক্ষ্য করে হামলা চালাতে চান না, কারণ এতে সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তিনি আরও দাবি করেন, সামরিক সক্ষমতা থাকলেও মানবিক কারণে এমন পদক্ষেপ তিনি এড়াতে চান।
ট্রাম্প দাবি করেছেন, একটি গোপন মার্কিন অভিযানের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি দিয়ে শতাধিক বাণিজ্যিক জাহাজ নিরাপদে চলাচল করেছে। তার মতে, এই অভিযানের কারণে বৈশ্বিক তেলের বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা এড়ানো গেছে। তবে এসব দাবির স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু নিশ্চিত করেনি।
ইরান জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি বা চুক্তি নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। দেশটি দাবি করছে, তাদের পদক্ষেপ প্রতিরক্ষামূলক এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে নেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা এখনো অনিশ্চিত অবস্থায় রয়েছে। একদিকে কূটনৈতিক সমাধানের ইঙ্গিত, অন্যদিকে সামরিক চাপ ও পাল্টা হুমকি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। আন্তর্জাতিক বাজার ও মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি—দুই ক্ষেত্রেই এর বড় প্রভাব পড়ছে।
মন্তব্য করুন