
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে পরিচিত আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি-এর রাষ্ট্রীয় জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠান আবারও পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। মহররম মাসের ধর্মীয় তাৎপর্য ও আশুরা পালনের সুযোগ নিশ্চিত করতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ফারস নিউজ এজেন্সিতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তেহরানের মেয়র আলীরেজা জাকানি জানান, পবিত্র মহররম মাসের প্রথম ১০ দিনের পরিবর্তে এখন রাষ্ট্রীয় শোক ও জানাজা অনুষ্ঠান দ্বিতীয় ১০ দিনে আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অনুষ্ঠানটি ২৬ জুন থেকে ৫ জুলাইয়ের মধ্যে যেকোনো দিনে হতে পারে।
ইরান সরকার শুরুতে জানিয়েছিল, মহররমের প্রথম ১০ দিনের মধ্যেই তিন দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় শোক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে। তবে ইমাম হোসেন (রা.)-এর স্মরণে পালিত পবিত্র আশুরার ধর্মীয় আচার পালনের পূর্ণ সুযোগ দিতে অনুষ্ঠানটি পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। তেহরান কর্তৃপক্ষ বলছে, ধর্মীয় আবহ ও রীতিনীতি বজায় রাখাই এই সিদ্ধান্তের মূল কারণ।
রাষ্ট্রীয় সূত্র দাবি করেছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধের প্রথম দিনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় দীর্ঘ প্রায় ৩৬ বছর ইরানের নেতৃত্বে থাকা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। একই হামলায় তার পরিবারের একাধিক সদস্যও নিহত হন বলে দাবি করা হয়। তবে এই দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এ বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্যও রয়েছে।
এর আগে এপ্রিল মাসে খামেনির স্মরণে একটি সংক্ষিপ্ত রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তবে সেটি পূর্ণাঙ্গ জানাজা ছিল না বলে জানিয়েছে ইরানি কর্তৃপক্ষ।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের তথ্য অনুযায়ী, একটি বিশাল আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। বিভিন্ন সরকারি সংস্থা নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে কাজ করছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, এই অনুষ্ঠানে প্রায় ২ কোটি মানুষের সমাগম হতে পারে।
পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী, তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মসজিদে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর পর খামেনির মরদেহ ইরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের শহর মাশহাদে দাফন করা হতে পারে। সেখানে তার পারিবারিক কবরস্থান ও ধর্মীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থান বিদ্যমান রয়েছে।
সূত্র: আল-আরাবিয়া
মন্তব্য করুন