
ফিফা বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজেদের ঐতিহ্যবাহী পাসিং ও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেও জয়ের দেখা পেল না স্পেন। ম্যাচজুড়ে বলের দখল এবং একের পর এক আক্রমণ গড়ে তুললেও কেপ ভার্দের রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষকের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে গোলশূন্য ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে স্প্যানিশদের।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয় স্পেন। প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে একাধিকবার চাপ সৃষ্টি করলেও কাঙ্ক্ষিত গোল আদায় করতে পারেনি তারা। প্রথমার্ধে বেশ কয়েকটি সম্ভাবনাময় সুযোগ তৈরি হলেও কেপ ভার্দের দৃঢ় রক্ষণভাগ এবং গোলরক্ষক ভোজিনিয়ার অসাধারণ সেভে স্কোরলাইন ছিল ০-০।
দ্বিতীয়ার্ধেও একই চিত্র দেখা যায়। স্পেনের খেলোয়াড়রা ধারাবাহিকভাবে আক্রমণ চালালেও কেপ ভার্দের ডিফেন্স যেন দুর্গে পরিণত হয়। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের পাশাপাশি যোগ করা অতিরিক্ত ৫ মিনিটেও গোলের দেখা পায়নি স্পেন। শেষ পর্যন্ত মূল্যবান এক পয়েন্ট নিয়ে উল্লাসে মেতে ওঠে কেপ ভার্দে।
ম্যাচের অন্যতম নায়ক ছিলেন কেপ ভার্দের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ভোজিনিয়া। স্পেনের একাধিক নিশ্চিত গোলের সুযোগ নষ্ট করে তিনি দলকে গুরুত্বপূর্ণ ড্র এনে দিতে বড় ভূমিকা রাখেন। শুধু গোলরক্ষকই নন, পুরো রক্ষণভাগই ছিল দুর্দান্ত সংগঠিত এবং শৃঙ্খলাবদ্ধ।
স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচে নেমে চলতি বিশ্বকাপের সবচেয়ে বেশি গড় বয়সের শুরুর একাদশ মাঠে নামানোর রেকর্ড গড়েছে কেপ ভার্দে। দলটির শুরুর একাদশের গড় বয়স ছিল ৩১ বছর ২৬ দিন। সেই একাদশে ছিলেন ৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক ভোজিনিয়াও।
ম্যাচটি শুধু গোলশূন্য ড্রয়ের জন্য নয়, একটি বিশেষ রেকর্ডের কারণেও স্মরণীয় হয়ে থাকবে। একদিন আগে ৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়ার জার্মানির হয়ে মাঠে নামেন। আর স্পেনের বিপক্ষে ভোজিনিয়ার অংশগ্রহণের মাধ্যমে ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একই আসরে ৪০ বছর বা তার বেশি বয়সী দুই ফুটবলারকে মাঠে খেলতে দেখল ফুটবল বিশ্ব।
এই ঐতিহাসিক অর্জনের মধ্য দিয়ে কেপ ভার্দে শুধু স্পেনের মতো শক্তিশালী দলকে রুখেই দেয়নি, বিশ্বকাপের ইতিহাসেও নিজেদের নাম লিখিয়েছে নতুনভাবে।
মন্তব্য করুন