
শেষ পর্যন্ত লড়াই করেও বিশ্বকাপে টিকে থাকতে পারল না জার্মানি। পিছিয়ে পড়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও আক্রমণে ধারাবাহিকতার অভাব, রক্ষণভাগের ভুল এবং পেনাল্টি শুটআউটে ব্যর্থতা চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের বিদায় নিশ্চিত করেছে। নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময় মিলিয়ে ১২০ মিনিটের লড়াইয়ে নিজেদের দুর্বলতাই শেষ পর্যন্ত জার্মানির সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়ায়।
ম্যাচের শুরু থেকেই জার্মানির রক্ষণভাগ ছিল অগোছালো। প্রথম গোলের সময় জুলিও এনসিসোকে কোনো মার্কিং ছাড়াই হেড করার সুযোগ দেওয়া হয়, যা ডিফেন্সের সমন্বয় ও মনোযোগ নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি করে। শুধু এই ম্যাচ নয়, টানা ১০ ম্যাচে গোল হজম করার পরিসংখ্যানও রক্ষণভাগের ধারাবাহিক দুর্বলতার প্রমাণ বহন করে।
বল দখলে এগিয়ে থাকলেও সেটিকে কার্যকর আক্রমণে রূপ দিতে পারেনি জার্মানি। রক্ষণ থেকে আক্রমণে ট্রানজিশন ছিল ধীরগতির। ফলে প্যারাগুয়ে সহজেই নিজেদের রক্ষণ সাজিয়ে নেয়। কয়েকটি সম্ভাবনাময় আক্রমণ তৈরি হলেও শেষ মুহূর্তে ভুল সিদ্ধান্ত এবং ফিনিশিংয়ের দুর্বলতায় গোলের দেখা মেলেনি।
কোচের শুরুর একাদশে আনা পরিবর্তন প্রত্যাশিত ফল দেয়নি। নতুন কৌশল আক্রমণভাগ ও মাঝমাঠের ভারসাম্য নষ্ট করে। দ্বিতীয়ার্ধে বদলি খেলোয়াড়দের মাধ্যমে গতি ফিরলেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি করতে পারেনি জার্মানি।
অতিরিক্ত সময়ের সবচেয়ে বড় ধাক্কা আসে ভিএআর সিদ্ধান্তে। জোনাথন তাহের সম্ভাব্য জয়সূচক হেড বাতিল হয়ে যাওয়ার পর দলের মানসিক ভাঙন স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এই মুহূর্তটি ম্যাচের মনস্তত্ত্ব পুরোপুরি বদলে দেয়। এরপর চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা লড়াই করলেও আক্রমণ শানাতে পারেনি।
দীর্ঘদিন ধরে পেনাল্টি শুটআউটে সফলতার জন্য পরিচিত জার্মানি এবার সেই সুনাম ধরে রাখতে পারেনি। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে একাধিক শট মিস এবং চাপ সামলাতে ব্যর্থ হওয়ায় টাইব্রেকারে জয় ছিনিয়ে নেয় প্যারাগুয়ে।
পুরো ম্যাচের চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, জার্মানির বিদায়ের পেছনে ভাগ্যের চেয়ে নিজেদের ভুলই বেশি দায়ী। রক্ষণভাগের অস্থিরতা, মাঝমাঠের কার্যকারিতার অভাব, কৌশলগত সীমাবদ্ধতা, ভিএআরের ধাক্কা এবং পেনাল্টি ব্যর্থতা—সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে তাদের যাত্রা শেষ হয়েছে হতাশার মধ্য দিয়ে।
মন্তব্য করুন