
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কালাইয়া বন্দরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আয়োজিত একটি বিক্ষোভ মিছিলকে কেন্দ্র করে তিনটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, একটি অস্থায়ী ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় এবং একটি বাসভবনে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (২৯ জুন) রাতে কালাইয়া বন্দর এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় কালাইয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. ফিরোজ হাওলাদার, ব্যবসায়ী ও ইউপি সদস্য মো. ফখরুল ইসলাম ফোরকানসহ কয়েকজন মারধরের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান এস এম ফয়সাল আহম্মেদ (মনির হোসেন মোল্লা)-এর বাসভবনেও ব্যাপক ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সোমবার সন্ধ্যায় বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মিছিলটি কালাইয়া বন্দর প্যাদা রোড এলাকায় পৌঁছালে ওষুধ ব্যবসায়ী রাজীব চন্দ্র শীলের দোকান এবং মো. জাফর খানের হার্ডওয়্যার দোকানে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় দুই ব্যবসায়ীকে মারধরেরও অভিযোগ করা হয়েছে।
এর কিছুক্ষণ পর মিছিলটি কাটপট্টি সড়কে অবস্থিত কালাইয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. ফিরোজ হাওলাদারের অস্থায়ী ইউপি কার্যালয় ও তার রড-সিমেন্টের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা চালানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা তাকে মারধরের পাশাপাশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। একই সময় ব্যবসায়ী ও ইউপি সদস্য মো. ফখরুল ইসলাম ফোরকানকেও মারধর করা হয়।
পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে মিছিলটি সুন্দরী সিনেমা হল সড়কে গিয়ে কালাইয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক এস এম ফয়সাল আহম্মেদ (মনির হোসেন মোল্লা)-এর বাসভবনে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করে। স্থানীয়রা জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে তিনি এলাকায় অবস্থান করছেন না।
কালাইয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. ফিরোজ হাওলাদার অভিযোগ করে বলেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা রিয়াজ পঞ্চায়েত, যুবদল নেতা স্বপন এবং ছাত্রদলের নেতা সোহেল, ইব্রাহিম ও রাজনসহ ২৫ থেকে ৩০ জন তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাকে মারধরের পাশাপাশি তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় চার লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায় বলে তিনি দাবি করেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ছাত্রদল নেতা রাজন মনসুর বলেন, “গত শনিবার রাতে বিএনপির মিছিলে আওয়ামী লীগের হামলার প্রতিবাদে আমরা ফ্যাসিবাদবিরোধী মিছিল বের করি। মিছিল থেকে প্যানেল চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে গিয়ে হামলার বিষয়ে জানতে চাই। এ সময় তিনি আমাদের কয়েকজন নেতাকর্মীর ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠলে উভয় পক্ষের মধ্যে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। হামলা বা লুটপাটের সঙ্গে আমরা কেউ জড়িত নই।”
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন