
আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে পাকিস্তানের সাম্প্রতিক বিমান হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ভারত। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এই সামরিক অভিযানকে একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের ভূখণ্ডে আগ্রাসী পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছে এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
ভারতের দাবি, পাকিস্তান নিজেদের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হওয়ার প্রেক্ষাপটে প্রতিবেশী দেশের ভূখণ্ডে সামরিক অভিযান পরিচালনা করছে। একই সঙ্গে হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত আফগান বেসামরিক নাগরিকদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে নয়াদিল্লি।
আফগানিস্তানের অন্তর্বর্তীকালীন তালেবান সরকারের দাবি, পাকিস্তানের এই বিমান হামলায় দেশটির পূর্বাঞ্চলের তিনটি সীমান্তবর্তী প্রদেশে অন্তত ৩৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ১৬৩ জন আহত হয়েছেন।
তালেবান প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, হতাহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। তবে এই সংখ্যার স্বাধীন আন্তর্জাতিক যাচাই এখনো সম্ভব হয়নি।
পাক্তিয়া প্রদেশের ৬৩ বছর বয়সী বাসিন্দা আদম খান এএফপি বার্তা সংস্থাকে জানিয়েছেন যে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রক্তাক্ত শিশুদের অবস্থা এবং তাদের মা-বাবার আর্তনাদ ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। পাক্তিকা প্রদেশের স্থানীয় সমাজকর্মী আমিন মঙ্গালের তথ্য অনুযায়ী একটি দরিদ্র ও অসহায় পরিবারের ওপর বোমা পড়লে ওই বাড়ির ছয়জন সদস্য ঘটনাস্থলেই মারা যান।
আফগানিস্তানের উপ-মুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত অভিযোগ করেছেন যে পাক্তিয়া অঞ্চলে প্রথম দফা হামলার পর যখন সাধারণ মানুষ উদ্ধার কাজে অংশ নিতে ছুটে আসেন, তখন সেখানে দ্বিতীয়বার অত্যন্ত অনৈতিকভাবে ডাবল-ট্যাপ বোমাবর্ষণ করা হয়। তবে এই চাঞ্চল্যকর যুদ্ধাপরাধের অভিযোগের বিষয়ে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী বা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের কাছে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার অবশ্য দাবি করেছেন যে করাচি হামলার সঙ্গে জড়িত টিটিপির বিচ্ছিন্ন দল জামাত-উল-আহরারের আস্তানাগুলো লক্ষ্য করে এই অভিযান চালানো হয়েছে এবং এতে ২৯ জন সন্ত্রাসী খতম হয়েছে।
জাতিসংঘের একটি প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চ মাসে কাবুলের একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে হামলার পর এটিই দুই দেশের মধ্যে অন্যতম বড় ও প্রাণঘাতী সীমান্ত সংঘাত।
২০২১ সালে তালেবান প্রশাসন আফগানিস্তানের ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই কাবুল ও ইসলামাবাদের সম্পর্ক ক্রমেই উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো পাকিস্তানে হামলা চালায়। অন্যদিকে আফগান কর্তৃপক্ষ ধারাবাহিকভাবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে এবং তাদের ভূখণ্ড কোনো উগ্রবাদী সংগঠনের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে না বলে দাবি করছে।
সূত্র: এনডিটিভি
মন্তব্য করুন