
ফিফা বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে দুর্দান্ত ছন্দে খেলছে সুইজারল্যান্ড। আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার পথে এক পা বাড়িয়ে রেখেছে সুইসরা। অন্যদিকে পুরো ম্যাচজুড়েই কার্যকর আক্রমণ গড়ে তুলতে ব্যর্থ হওয়ায় আলজেরিয়ার বিশ্বকাপ স্বপ্ন ক্রমশ ম্লান হয়ে আসছে।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে সুইজারল্যান্ড। এর ফলও পেয়ে যায় মাত্র ১১ মিনিটেই। দলের হয়ে প্রথম গোলটি করেন ফরোয়ার্ড ব্রিল এমবোলো। তার নিখুঁত ফিনিশিংয়ে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় সুইজারল্যান্ড। গোল হজমের পর ছন্দে ফিরতে পারেনি আলজেরিয়া।
বিরতির পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে মাঠে নামে সুইসরা। ম্যাচের ৪৬তম মিনিটে দুর্দান্ত এক শটে জালে বল পাঠান ড্যান এনদোয়ে। তার গোলে ব্যবধান বেড়ে দাঁড়ায় ২-০। এই গোলের পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় সুইজারল্যান্ড।
ম্যাচজুড়ে সুইজারল্যান্ডের অধিনায়ক ও মিডফিল্ডার গ্রানিত জাকা বারবার আলজেরিয়ার খেলোয়াড়দের কঠোর ট্যাকলের শিকার হন। এক পর্যায়ে একটি ফাউলকে কেন্দ্র করে আলজেরিয়ার রফিক বেলঘালির সঙ্গে তার উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে রেফারি দ্রুত হস্তক্ষেপ করে দুই খেলোয়াড়কে আলাদা করেন। মাঠ ছাড়ার সময়ও প্রতিপক্ষের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করতে দেখা যায় জাকাকে।
দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করে আলজেরিয়া। বাঁ দিক দিয়ে কাট-ইন করে বক্সের বাইরে থেকে দূরপাল্লার শট নেন জাওয়েন হাদজাম। তবে তার নেওয়া কোণাকুণি শটটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে অনেক ওপর দিয়ে চলে যায়।
এরপর ম্যাচে নিজেদের প্রথম কর্নারের সুযোগ পায় আলজেরিয়া, যা দলটির আক্রমণভাগের নিষ্প্রভ পারফরম্যান্সই তুলে ধরে। আনিস হাদজ মুসার কার্লিং কর্নার সহজেই প্রতিহত করে সুইজারল্যান্ডের রক্ষণভাগ।
অন্যদিকে তৃতীয় গোল করে ম্যাচের ভাগ্য পুরোপুরি নিজেদের পক্ষে নিয়ে যাওয়ার সুযোগও পেয়েছিল সুইজারল্যান্ড। ডান প্রান্ত থেকে আসা একটি নিচু ক্রস প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডার ক্লিয়ার করলেও বলটি বক্সের ভেতরে ফ্যাবিয়ান রিডারের সামনে চলে আসে। তবে তার প্রথম স্পর্শের শট গোললাইনের কাছেই আলজেরিয়ার ডিফেন্ডাররা ব্লক করে দেন।
ম্যাচের বাকি সময়ে দুই গোলের এই লিড ধরে রাখতে পারলে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করবে সুইজারল্যান্ড। অন্যদিকে আলজেরিয়ার জন্য বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হওয়ার শঙ্কা আরও প্রবল হয়ে উঠবে।
সুইজারল্যান্ডের সংগঠিত রক্ষণ, কার্যকর আক্রমণ এবং বল দখলে আধিপত্য ম্যাচটিকে একতরফা করে তুলেছে। শেষ বাঁশি পর্যন্ত এই ব্যবধান ধরে রাখতে পারলে বিশ্বকাপের শেষ আটে জায়গা করে নেবে সুইসরা।
মন্তব্য করুন