
গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে নির্মিত কথিত বিশ্বের বৃহত্তম রামমূর্তি দ্রুত অপসারণের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে সচেতন নাগরিক ফোরাম, গাইবান্ধা। সংগঠনটির দাবি, এটি নিছক ধর্মীয় স্থাপনা নয়; বরং দেশের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেলে জেলা শহরের দেশি ভোজ নামে একটি হোটেলের হলরুমে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সচেতন নাগরিক ফোরাম, গাইবান্ধার আহ্বায়ক মুফতি মাহমুদুল কাসেমী। তিনি বলেন, গাইবান্ধা জেলায় হিন্দু, মুসলিমসহ সব ধর্মের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে সম্প্রীতির সঙ্গে বসবাস করে আসছেন এবং সাম্প্রতিক কোনো সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার ইতিহাস নেই। তবে সম্প্রতি হরিদাস নামে এক ব্যক্তির উদ্যোগে পলাশবাড়ীতে রামমূর্তি স্থাপনকে কেন্দ্র করে অস্থির পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে কয়েক দিন আগে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপিও দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও দাবি করেন, পলাশবাড়ীতে কথিত বিশ্বের বৃহত্তম রামমূর্তি নির্মাণ কেবল ধর্মীয় অনুশীলনের বিষয় নয়; বরং ধর্মের আড়ালে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের অংশ। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ভারতের সেভেন সিস্টার্স অঞ্চলকে কেন্দ্র করে রংপুর অঞ্চলকে ভারতের অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনার সঙ্গে এ ঘটনার সম্পর্ক রয়েছে বলে তারা মনে করেন। এ বিষয়ে ভারতের কিছু দায়িত্বশীল ব্যক্তি ও উগ্রবাদী হিন্দু নেতাদের বক্তব্য উদ্বেগের কারণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সংবাদ সম্মেলন থেকে পাঁচ দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো— ধর্মের লেবেল ব্যবহার করে উসকানির উদ্দেশ্যে মন্দিরের বাইরে খোলা আকাশের নিচে স্থাপিত বিতর্কিত রামমূর্তি দ্রুত অপসারণ, প্রতারক হরিদাসসহ দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা, প্রকল্পের অর্থায়নের উৎস তদন্ত করা, তদন্তে বিদেশি কোনো রাষ্ট্রের সম্পৃক্ততার অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং গাইবান্ধা ও রংপুর বিভাগের শান্তি-শৃঙ্খলা ও দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া।
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, উল্লিখিত দাবিগুলো বাস্তবায়ন না হলে ভবিষ্যতে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সচেতন নাগরিক ফোরামের সদস্য সচিব প্রভাষক মাওলানা আব্দুল মাজেদ, হাফেজ মো. আবুল বাসার, সহকারী অধ্যাপক জহুরুল হক সরকার, মুফতি ইদ্রিস আলীসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা।
মন্তব্য করুন
০২ জুলাই ২০২৬, ১২:১০ এএম
০১ জুলাই ২০২৬, ১০:৩৮ পিএম
০২ জুলাই ২০২৬, ১২:২৫ এএম