
কী অবিশ্বাস্য, কী অতিমানবীয় এক প্রত্যাবর্তন! ফুটবল যে কেন আনপ্রেডিক্টেবল বা অনিশ্চয়তার খেলা, চলমান ম্যাচেই তার জীবন্ত প্রমাণ দেখাল ইংল্যান্ড। মাত্র ১৫ মিনিট আগেও যারা ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে খাদের কিনারে দাঁড়িয়ে কাঁপছিল, থ্রি লায়ন্স অধিনায়ক হ্যারি কেইনের মাত্র ১১ মিনিটের টর্নেডো ঝড়ে তারাই এখন ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে! কেইনের এই মহাকাব্যিক জোড়া গোলের রাতে ভেঙে গেছে ফুটবল সম্রাট পেলের এক অনন্য বিশ্বরেকর্ডও।
গর্ডনের পাস ও কেইনের দ্বিতীয় ম্যাজিক সমতাসূচক গোল করার ঠিক ১১ মিনিটের মাথায় প্রতিপক্ষকে স্তব্ধ করে নিজের এবং দলের দ্বিতীয় গোলটি এনে দেন কেইন।
ডিফেন্স চেরা আক্রমণ : ডি-বক্সের সামান্য বাইরে থেকে আক্রমণ সাজান উইঙ্গার অ্যান্থনি গর্ডন। তিনি প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেঙে বল বাড়িয়ে দেন কেইনের উদ্দেশে।
গতি ও নিখুঁত ডান পায়ের শট : বল পাওয়া মাত্রই দুর্দান্ত ক্ষিপ্রতায় বক্সে ঢুকে পড়েন কেইন। এরপর ডিফেন্ডারদের কোনো সুযোগ না দিয়ে ডান পায়ের এক দর্শনীয় ও জোরালো শটে বল পাঠিয়ে দেন জালের ঠিক কোণায়। প্রতিপক্ষ গোলরক্ষক ঝাঁপিয়েও সেই বুলেটের মতো গতির শট রুখতে পারেননি।
ফুটবল সম্রাট পেলেকে ছাড়িয়ে ইতিহাস!
এই দ্বিতীয় গোলের সাথে সাথেই ফুটবল ইতিহাসের অমর পাতায় নিজের নাম লিখিয়ে নিলেন হ্যারি কেইন। বিশ্বকাপে গোলসংখ্যায় তিনি এখন ছাড়িয়ে গেছেন কিংবদন্তি পেলেকে (পেলের বিশ্বকাপ গোল ১২টি)।
বিশ্বকাপে মোট গোল: কেইনের বিশ্বমঞ্চে মোট গোলসংখ্যা এখন ১৩টি।
চলতি আসরের পারফরম্যান্স : এবারের বিশ্বকাপে এটি তার ৫ম গোল। গোল্ডেন বুটের দৌড়েও তিনি এখন সবার চেয়ে ফ্রন্টরানার।
মাত্র ১১ মিনিটের ব্যবধানে কেইনের এই জোড়া আঘাত প্রতিপক্ষের মনোবল পুরোপুরি ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে। ম্যাচ এখন ইংল্যান্ডের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে। ২-১ ব্যবধানে লিড নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের সুবাস পেতে শুরু করেছে সাউথগেটের শিষ্যরা।
মন্তব্য করুন