
আইভরি কোস্টের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানের রোমাঞ্চকর জয়ে বিশ্বকাপের শেষ ১৬-তে জায়গা করে নিয়েছে নরওয়ে। বাংলাদেশ সময় আগামী সোমবার রাত ৩টায় কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে সেলেসাওদের মুখোমুখি হবে তারা।
ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, গত রাউন্ডে ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ জাপানের চেয়ে আর্লিং হালান্ডের নরওয়ে অনেক বেশি কঠিন ও বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের জন্য।
গ্যালারিতে ভক্তদের চিরচেনা ‘ভাইকিং রোয়ার’ স্লোগানকে অনুপ্রেরণা বানিয়ে চলতি বিশ্বকাপে দুর্দান্ত খেলছে নরওয়ে। এখন পর্যন্ত চার ম্যাচের তিনটিতেই জয় পেয়েছে তারা। আসরে ১০টি গোল করার বিপরীতে তারা হজম করেছে ৮টি। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ফ্রান্সের কাছে ৪-১ ব্যবধানে হারলেও সেটি নিয়ে চিন্তিত নয় দলটি; কারণ সে ম্যাচে নিয়মিত একাদশের খেলোয়াড়দের বিশ্রাম দিয়ে রিজার্ভ বেঞ্চের পরীক্ষা নিয়েছিল নরওয়েজিয়ানরা।
নরওয়ের আসল শক্তি লুকিয়ে আছে তাদের আক্রমণভাগে। চলতি বিশ্বকাপে একাই ৫ গোল করা ম্যানচেস্টার সিটি স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ডের বিধ্বংসী ফর্ম এবং রিয়াল মাদ্রিদ তারকা মার্টিন ওডেগার্ডের মাঝমাঠের সৃজনশীলতা ব্রাজিলের রক্ষণভাগের জন্য বড় পরীক্ষা হতে যাচ্ছে। তবে ব্রাজিলিয়ান কোচ কার্লো আনচেলত্তি ভরসা রাখছেন এমন একজনের ওপর, যিনি ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে আর্সেনাল বনাম ম্যানসিটির দ্বৈরথে নিয়মিত হালান্ডকে বোতলবন্দি করার কাজে অভ্যস্ত—তিনি ডিফেন্ডার গ্যাব্রিয়েল মাগালাহায়েস।
ম্যাচটিতে ব্রাজিলকে সবচেয়ে বেশি ভুগতে হতে পারে এরিয়াল বল ও শারীরিক লড়াইয়ে। নরওয়ে স্কোয়াডে রয়েছে বেশ কয়েকজন দীর্ঘদেহী ও শক্তিশালী ফুটবলার। তাদের দলে আছেন:
আলেকজান্ডার সরলথ (ফরোয়ার্ড) – ১.৯৫ মিটার
আর্লিং হালান্ড (ফরোয়ার্ড) – ১.৯৪ মিটার
প্যাট্রিক বার্গ (মিডফিল্ডার) – ১.৯৫ মিটার
ক্রিস্টোফার আয়ের (ডিফেন্ডার) – ১.৯৬ মিটার
তরিক হেগেম (ডিফেন্ডার) – ১.৯২ মিটার
অন্যদিকে, ব্রাজিলের শুরুর একাদশের একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে ১.৯০ মিটার উচ্চতা রয়েছে শুধু মাগালাহায়েসের। ফলে সেট-পিস ও কর্নার থেকে নরওয়ের আকাশপথের আক্রমণ সামলানো ব্রাজিলের জন্য হবে অন্যতম প্রধান কাজ।
জাপানের মতো রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলার দল নরওয়ে নয়, তারা আক্রমণাত্মক খেলতেই ভালোবাসে। তবে ব্রাজিলের শক্তির কথা বিবেচনা করে তারা হয়তো অল-আউট আক্রমণে যাবে না। নরওয়ে আক্রমণে উঠলে মাঠে ফাঁকা জায়গা (স্পেস) তৈরি হবে, যা গতি তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও রায়ানের জন্য দারুণ সুযোগ এনে দিতে পারে। প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে গতি দিয়ে বাজিমাত করতে পারে সেলেসাওরা।
তাছাড়া নরওয়ের ডিফেন্স লাইন মোটেও নিশ্ছিদ্র নয়। ফ্রান্সের বিপক্ষে বড় পরাজয় বাদেও সেনেগালের বিপক্ষে ৩-২ এবং তুলনামূলক দুর্বল প্রতিপক্ষ ইরাকের বিপক্ষে ৪-১ ব্যবধানে জেতার ম্যাচেও তারা গোল হজম করেছে।
আক্রমণভাগের দুই-একজন মহাতারকা বাদ দিলে নরওয়ের পুরো স্কোয়াডে বড় নামের বেশ অভাব। জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম ‘ও গ্লোবো’-র এক হেড-টু-হেড বিশ্লেষণে দেখা গেছে, নরওয়ে ও আইভরি কোস্টের সম্ভাব্য শুরুর একাদশের পজিশনভিত্তিক তুলনায় আইভরিয়ানরাই ৮-৩ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল। স্বভাবতই, স্কোয়াডের গভীরতা এবং সামগ্রিক শক্তিতে আর্লিং হালান্ডের নরওয়ের চেয়ে ব্রাজিল দলই আগামী সোমবারের ম্যাচে পরিষ্কার ফেভারিট হিসেবে মাঠে নামবে।
মন্তব্য করুন
৩০ জুন ২০২৬, ০৩:৩৭ পিএম
৩০ জুন ২০২৬, ০৬:৫৪ পিএম