
সুচিত্রা রাণী সরকার এক জন সফল নারী উদ্যোক্তা। খুলনার কয়রা উপজেলার বাগালী ইউনিয়নের বামিয়া গ্রামের এই নারী উদ্যোক্তা তালার সাতক্ষীরা উন্নয়ন সংস্থা (সাস) এর সহযোগিতায় করছেন মাছ চাষ। এলাকায় ছয়টি মিনি মৎস্য ঘেরে মিশ্র পদ্ধতিতে মাছ চাষ করে তিনি হয়েছেন অধিক লাভবান ও সাবলম্বী। দেড় থেকে দুই একরের ওইসব ঘেরে সাদা মাছের সাথে ভেনামি চিংড়ি মাছের চাষ করে তিনি অধিক সফলতা পেয়েছেন।
জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশন (জেসিএফ) যশোর প্রধান কার্যালয়ের স্মার্ট প্রকল্পের কর্মকর্তা ও উপকার ভোগী মাছ চাষীদের একটি টিম মঙ্গলবার ভেনামি চিংড়ি মাছের মিশ্র চাষ পদ্ধতিসহ সাতক্ষীরা উন্নয়ন সংস্থার (সাস) তালা ও কয়রায় বিভিন্ন প্রকল্পে এক্সপোজার ভিজিট করেন।
তার আগে সকালে প্রায় কুড়ি সদস্যের দলটি নিয়ে সাতক্ষীরা উন্নয়ন সংস্থার তালায় প্রধান কার্যালয়ে পরিচিতি ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় পিকেএসএফ’র অর্থায়নে পরিচালিত স্মার্ট প্রকল্পসহ সাসের বিভিন্ন কার্যক্রম প্রজেক্টারের মাধ্যমে উপস্থাপন করেন সংস্থার প্রজেক্ট ম্যানেজার বি এম হাবিবুর রহমান। মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক শেখ ইমান আলী, জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের স্মার্ট প্রজেক্টের ম্যানেজার সুলতান মাহমুদ প্রমুখ।
সরেজমিন দেখে নতুন প্রযুক্তি ও উন্নত কর্মপদ্ধতি সম্পর্কে বাস্তব জ্ঞান অর্জনের লক্ষ্যে দলটি দিন ব্যাপী তালা উপজেলার ভায়ড়া গ্রামে এগ্রোটুরিজম ও এগ্রোলার্নিং সেন্টার, কলিয়া গ্রামে মিজানুর রহমানের মিশ্র মাছ চাষ, কয়রা উপজেলার বাগালী ইউনিয়নের বামিয়া গ্রামের নারী উদ্যোক্তা সুচিত্রা রাণী সরকারের সাদা মাছের সাথে ভেনামি চিংড়ি মাছের চাষ পদ্ধতি, উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নের কাঠকাটা সুন্দরবন এলাকা ও মদিনানগরে সুন্দরবন ইকোট্যুরিজম সেন্টার পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শন কালে টিম লিডার ছিলেন সাতক্ষীরা উন্নয়ন সংস্থার প্রজেক্ট ম্যানেজার বি এম হাবিবুর রহমান, টেকনিক্যাল অফিসার ফিরোজা আফরিন সোমা এবং জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের স্মার্ট প্রজেক্টের ম্যানেজার সুলতান মাহমুদ, এমআইএস অফিসার কাওসার আলী, টেকনিক্যাল অফিসার আজহারুল ইসলাম, সামাজিক কর্মকর্তা মনোয়ার হোসেন, একাউন্টস অফিসার ইমরান হোসেন, সহকারী কারিগরি কর্মকর্তা মাসুদ রানা, উপকার ভোগী মাছ চাষী মোতাহার হোসেন, কবিরুল ইসলাম প্রমূখ।
জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের প্রজেক্টের ম্যানেজার সুলতান মাহমুদ বলেন, একটি সফল খামার বা প্রকল্প সরেজমিন দেখে নতুন প্রযুক্তি ও উন্নত কর্মপদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা নেয়ার জন্য এই এক্সপোজার ভিজিটের আয়োজন করা হয়েছে। এই ভিজিটের মাধ্যমে সফল উদ্যোক্তা বা প্রতিষ্ঠানের কাজের পদ্ধতি দেখে নিজেদের দক্ষতা ও উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর অনুপ্রেরণা পাওয়া যাবে।
উদ্যোক্তা সুচিত্রা রাণী সরকারের স্বামী ভবতোষ কুমার সরকার বলেন, ভেনামি চিংড়ি চাষ অত্যন্ত লাভজনক ও উচ্চ ফলনশীল। এটি মাত্র ৬০ থেকে ১০০ দিনের মধ্যে বাজারজাতকরণের উপযোগী হয় এবং বাগদার তুলনায় উৎপাদন খরচ প্রায় অর্ধেক। বাণিজ্যিকভাবে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বাগদা চিংড়ি যেখানে ৫-৬ মাসে একবার আহরণ করা যায়, সেখানে ভেনামি মাত্র ২ থেকে ৩ মাসের মধ্যে আহরণ করা হয়ে থাকে। তাছাড়া ভেনামি কম জায়গায় বেশি ঘনত্বে চাষ করা যায় বিধায় বাগদার চেয়ে এর উৎপাদন বহুগুণ বেশি ও লাভজনক।
সাতক্ষীরা উন্নয়ন সংস্থার প্রজেক্ট ম্যানেজার বি এম হাবিবুর রহমান বলেন, ভেনামি মূলত সামুদ্রিক চিংড়ি হলেও স্বাদু এবং কম লবণাক্ত পানিতেও সফলভাবে চাষ করা যায়। দেশের দক্ষিণ ও উপকূলীয় অঞ্চলের ঘের বা পুকুরগুলোতে এটি চাষ করা সম্ভব। যে কারণে সাস ওইসব অঞ্চলে এই মাছ চাষের জন্য লোনী সদস্যদের আধুনিক ও উন্নত প্রশিক্ষণ ও এয়ারেটর সহ বিভিন্ন উপকরণ ও কারিগরি সহায়তা দিয়ে থাকে।
মন্তব্য করুন