
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে সাঁওতাল বিদ্রোহের ১৭১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে উপজেলার সাহেবগঞ্জ বাগদা ফার্ম কাটামোড় এলাকায় এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
সাহেবগঞ্জ বাগদা ফার্ম উদ্ধার কমিটির একাংশের আয়োজনে প্রথমে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি বাগদা ফার্ম কাটামোড় এলাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে সেখানে গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
গণসমাবেশে সুফল হেমরমের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কমিউনিস্ট পার্টি কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি আমিনুল ফরিদ। আরও উপস্থিত ছিলেন আদিবাসী ইউনিয়নের সভাপতি রেবেকা সরেন, সাধারণ সম্পাদক শ্রীকান্ত মাহাতো, বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের দপ্তর সম্পাদক ছামিউল আলম রাসু, বাংলাদেশ ভূমিহীন আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক শেখ নাসির উদ্দিনসহ অন্যান্যরা।
সমাবেশ শুরুর আগে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং প্রতিকৃতিতে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করা হয়।
বক্তারা বলেন, স্বাধীনতার ৫০ বছর পরও সাঁওতাল জনগোষ্ঠী তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত। তারা অভিযোগ করে বলেন, ২০১৬ সালে গোবিন্দগঞ্জে সাঁওতালদের বাড়িঘরে হামলা, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট এবং তিন সাঁওতাল হত্যার ঘটনায় এখনো বিচার হয়নি। দ্রুত ওই হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং সাঁওতালদের দখলকৃত বাপ-দাদার সম্পত্তি ফেরতের দাবি জানান তারা।
অন্যদিকে একই দিনে সাহেবগঞ্জ এলাকায় ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির অপর অংশও পৃথক কর্মসূচি পালন করে। তাদের কর্মসূচির মধ্যে ছিল শহীদ বেদিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ, শোভাযাত্রা ও সমাবেশ।
এ অংশের সমাবেশে ফিলিমন বাসকের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন রাফায়েল হাঁসদা, আব্দুল আজিজ, বিটিশ সরেন, আনিসুর রহমান ময়নুল, সিউলি টুডুসহ অন্যান্যরা।
উল্লেখ্য, ১৮৫৫ সালে ভারতে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে প্রথম সাঁওতাল বিদ্রোহ সংঘটিত হয়। সেই বিদ্রোহে সাঁওতাল নেতা সিধু, কানু, চাঁদ, ভৈরবসহ বহু মানুষ শহীদ হন। এরপর থেকে প্রতি বছর ৩০ জুন সাঁওতাল ‘হুল’ বা বিদ্রোহ দিবস হিসেবে পালন করা হয়ে আসছে।
মন্তব্য করুন